মানুষ উন্নয়নে যুক্ত হতে পেরেছে?- সংশয় মেননের

আপডেট: 01:01:58 18/01/2020



img
img
img

চন্দন দাস, বাঁকড়ি (বাঘারপাড়া) থেকে : যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বাঁকড়িতে শুরু হয়েছে অমল সেন স্মরণমেলা।
প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা অমল সেনের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনের মাধ্যমে শুক্রবার দুপুরে এবারের আয়োজন শুরু হয়। চলবে দুইদিন।
বিকেলে বাঁকড়ি হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তৃতা করেন অমল সেন স্মৃতিরক্ষা কমিটি ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ১৫ বছরের উন্নয়নে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। তবে সে উন্নয়নে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যুক্ত হতে পেরেছে কিনা সেটা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষক আজ ফসলের ন্যায্যদাম পায় না। অনিশ্চয়তার সম্মুখিন হয়ে পড়েছে কৃষক। লটারির নামে যাদের ঘরে ধান নাই, তাদের কাছ থেকে ধান কিনে নেওয়া হচ্ছে।
রাশেদ খান মেনন বলেন, কৃষক যদি ফসলের সঠিক দাম না পায় তাহলে তারা ধর্মঘট করবে। কমরেড অমল সেন সেই মন্ত্র শিখিয়ে গেছেন।
তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম নেতা অমল সেনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দুইদিনব্যাপী স্মরণোৎসবে স্মরণসভা আয়োজন করে ‘অমল সেন স্মৃতিরক্ষা কমিটি’। এই কমিটি মূলত ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীদের নিয়েই গঠিত। অমল সেন শেষ জীবনে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃত্ব দিয়েছেন।
গত ১৬টি স্মরণোৎসব থেকে এবারের আয়োজন খানিকটা ভিন্ন। ওয়ার্কার্স পার্টি দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ায় অনুষ্ঠানের মূল আয়োজন স্মরণসভায় দুই অংশের নেতা-কর্মীরা অংশ নিচ্ছেন দুইদিন।
প্রথমদিন রাশেদ খান মেনন-ফজলে হোসেন বাদশার ওয়ার্কার্স পার্টি এবং দ্বিতীয় দিন ইকবাল কবির জাহিদের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টি মার্কসবাদীরা থাকছেন। যদিও প্রথম দিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনে ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টি মার্কসবাদী নেতারাও। বিভক্তির কারণে অনুষ্ঠান কিছুটা হলেও জৌলুস হারিয়েছে বলে জানান উপস্থিতরা।
শুক্রবার বিকেল তিনটায় বাঁকড়ি হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।
এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, ড. সুশান্ত দাস, নূর আহমেদ বকুল, অ্যাডভোকেট মোস্তফা লুৎফুল্লাহ, নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য জ্যোতিশংকর, কৃষকনেতা মাহমুদুল হাসান মানিক, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা কামরুল আহসান, ওয়ার্কার্স পার্টি যশোর জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক সবদুল হোসেন খান, জাসদের নড়াইল জেলা সভাপতি আব্দুস সালাম খান, জাকির হোসেন রাজু, নড়াইল সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান স্বপ্না সেন, যশোর জেলা যুবমৈত্রীর সভাপতি অনুপকুমার পিন্টু, ছাত্রমৈত্রী সভাপতি শ্যামল শর্মা প্রমুখ।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় অমল সেনের সমাধিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাসহ কেন্দ্রীয়, বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ও স্থানীয় নেতারা।
একই দিন ওয়ার্কার্স পার্টি মার্কসবাদীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদসহ দলটির নেতাকর্মীরা সমাধিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন।
শ্রদ্ধা জানায় ওয়ার্কার্স পার্টি খুলনা জেলা ও মহানগর কমিটি, গোপালগঞ্জ, সাতক্ষীরা, রাজশাহী, বরিশাল, নড়াইল, মাগুরা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, চুয়াডাঙ্গা জেলাও।
এদিকে, অন্যবারের মতো এবারো অমল সেন স্মরণোৎসবকে ঘিরে বাঁকড়িতে বসেছে লোকজ মেলা। এতে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দোকানিরা তাদের পণ্য সাজিয়ে বসেছেন। বিকেল নাগাদ মেলায় ভিড়ও ছিল লক্ষ্যণীয়। তবে নাম লোকজ মেলা হলেও এতে প্লাস্টিকসহ নানা ধাতবে তৈরি জিনিসপত্রের আধিক্য দেখা যায়।
জমিদারনন্দন অমল সেন জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন যশোর-নড়াইলের মধ্যবর্তী বাঁকড়ি ও আশপাশের এলাকার নিম্নকৃষকদের সঙ্গে। তার সমাধিও বাঁকড়ি গ্রামে।

আরও পড়ুন