মানুষের চাপে লোহাগড়া বাজারে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি

আপডেট: 03:17:24 10/05/2020



img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : দোকানপাট খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর লোহাগড়া বাজারে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বাজারজুড়ে গিজগিজ করছে মানুষজন।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী রোববার সকালে লোহাগড়া বাজারের সব ধরনের দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়। সকাল সাতটার দিকে পণ্যসামগ্রী বিকিকিনি শুরু হলে বেড়ে যায় মানুষজনের উপস্থিতি। দোকানপাট খোলার পূর্বশর্ত হিসেবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা করার কথা থাকলেও সরেজমিনে বাজার ঘুরে কোথাও এর লেশমাত্র দেখা যায়নি। এক সপ্তাহ আগে যেখানে ছিল সুনসান নীরবতা, আজ তার চিত্র ভিন্ন। বাজারের দোকানগুলোর সামনে উপচেপড়া ভীড়। ক্রেতাদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি। অধিকাংশ মানুষের মুখে নেই মাস্ক।
দোকানপাটে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধের কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। দেখা যায়নি পুলিশ প্রশাসনের নজরদারিও। এমন পরিস্থিতি করোনাভাইরাস ছড়ানোর জন্য আদর্শ বলে মনে করছেন অনেকে।
গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর নড়ে-চড়ে বসে সরকার। ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটির ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশনা জারি হয়। পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়। দেশব্যাপী নামানো হয় সেনাবাহিনীও।
লোহাগড়া উপজেলা সদরের পারছাতরা গ্রামে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট চারটি গ্রাম লকডাউন করে দেয়। এরপর লোহাগড়া হাসপাতালে তিন ডাক্তারসহ দুইজন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হলে গোটা উপজেলা লকডাউন ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন। লোহাগড়ার প্রবেশ মুখ কালনাঘাটে নৌকা চলাচল বন্ধ করে মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু সরকার ১০ মে থেকে স্বল্প পরিসরে দোকানপাট খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলাটির চিত্র বদলে যায়।
কথা হয় লোহাগড়া বাজার বণিক সমিতির নেতা মহসীন মোল্যার সঙ্গে। তিনি বলেন, ক্রেতাদের চাপে স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারির দাবি জানান তিনি।
লোহাগড়ার সংবাদপত্র সরবরাহকারী খন্দকার বখতিয়ার সেলিম টিপু মনে করছেন, লকডাউনের মধ্যে সীমিত পরিসরে দোকানপাট খুলে দেওয়ার পর এখানকার স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে পড়েছে। বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি।
পৌর কাউন্সিলর ও বাজারের ব্যবসায়ী বিশ্বনাথ দাস ভুন্ডুল বলেন, ক্রেতাদের শারীরিক দূরত্ব মেনে কেনাকাটা করার জন্য বলা হলেও তা কেউ মানছেন না। এতে করোনা ঝুঁকি বাড়ছে।
লোহাগড়া থানার এসআই মিল্টনকুমার দেবদাস বলেন, লোহাগড়া বাজারের ব্যবসায়ীদেরকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকুলকুমার মৈত্র এ বিষয়ে বলেন, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট পরিচালনা করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন