মাদরাসাছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ৩

আপডেট: 02:14:11 18/02/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার : মণিরামপুরে এবার মোবাইলফোন চোর সন্দেহে নির্যাতনে মাদরাসাছাত্র মামুন হাসানের (২২) মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে।
বুধবার রাতেই নিহতের বাবা মশিয়ার গাজী বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় মামলাটি করেছেন।
মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে পাঁচ-ছয়জনকে। পুলিশ বুধবার রাতে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মণিরামপুর উপজেলার খোজালিপুর গ্রামের মাহামুদ হোসেনের ছেলে মো. লাভলু (২৫), একই গ্রামের মিজানুর গাজীর ছেলে আলতাফ হোসেন (৩০) এবং ইউসুফ আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (১৯)।
বুধবার বিকেলে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাদরাসাছাত্র মামুন হাসান। এর আগের দিন মঙ্গলবার রাতে হাত-পা বেঁধে তাকে মারধর করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিহত মামুন মণিরামপুর উপজেলার খোজালিপুর গ্রামের মশিয়ার গাজীর ছেলে। তিনি মনিরামপুর আলিয়া মাদরাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে খাবার খেয়ে রাত ১১টার দিকে মামুন পাশে তার খালা রেহেনা বেগমের দোকানে যায়। তখন বন্ধু আরমান তাকে ডেকে পাশে হরিহর নদের পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে দল পাকিয়ে লোকজন এসে মামুনকে নদের পানিতে ফেলে মারধর করে। এরপর ওই গ্রামের আয়নালদের বাড়িতে নিয়ে হাত-পা বেঁধে তাকে আবারও মারধর করা হয়। ভোর তিনটা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা মারধরের শিকার হয় মামুন। খবর পেয়ে তার মা সেখানে যেয়ে ছেলেকে মরণাপন্ন অবস্থায় দেখতে পান। তাকে জানানো হয়, তার ছেলে মোবাইল ফোন চুরি করেছে। পরদিন বুধবার সকালে সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বিকেল তিনটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।  
মণিরামপুর থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান বলেন, এ ঘটনায় বুধবার রাতে মামলা হয়েছে। ওই রাতে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ আজ বৃহস্পতিবার সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন