মাথা গোঁজার ঠাঁই চায় কোটচাঁদপুরের ভূমিহীন ১২ পরিবার

আপডেট: 07:05:11 26/12/2020



img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : পরিত্যক্ত জায়গার জঙ্গল পরিষ্কার করে সেখানে টিনের ঘর তুলেছিলেন লিলি বেগম (৫৫)। সেই ঘরই তার মাথা গোঁজার একমাত্র অবলম্বন। স্বামীর মৃত্যুর পর চার সন্তান নিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর এখানেই বসবাস করেন লিলির পরিবার।
শুধু লিলি একা নন, অসহায় ভূমিহীন ১২টি পরিবার বসবাস করেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সলেমানপুর মৌজার একটি পরিত্যক্ত জমিতে। যে জমির কিছু অংশে একসময় পশুর হাট বসতো।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি স্থানীয় ভূমি অফিসের পক্ষে তাদের এই জায়গা থেকে উঠে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বসবাসকারীদের সরকারের কাছে প্রত্যাশা, তাদের যেন মাথা গোঁজার মতো একটা ব্যবস্থা করা হয়।
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সলেমানপুর মৌজায় তিন দাগে প্রায় এক একর ১৫ শতক জমি রয়েছে। সরকারের এক নম্বর খতিয়ানভুক্ত এই তিন দাগের জমির মধ্যে ২ শতক ৫০ পয়েন্ট আছে রাস্তা, ৮৯ শতক ৩৭ পয়েন্ট গোহাট ও ২৩ শতক ৬৩ পয়েন্ট ধানি শ্রেণিভুক্ত রয়েছে। স্থনীয়রা জানান, একটি সময় এই স্থানে পশুর হাট বসতো। পাশাপাশি জমির চারিপাশে জঙ্গলে ভরা ছিল। দুই বছর হলো এখানে পশুর হাট বসানো হয় না। যে কারণে জায়গাটি আরো জঙ্গলে আবদ্ধ হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিদা খাতুন জানান, তারা ভূমিহীন, থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। সলেমানপুরের এই সরকারি জমির দক্ষিণ পাশে জঙ্গল পরিষ্কার করে বাসযোগ্য করে তোলেন। এলাকায় তারা ১২টি পরিবার ঘর করে বসবাস করেন। উপরের অংশ এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সেখানে বালি রেখে বিক্রি করার কাজ চলে।
তিনি জানান, এই স্থানে ডায়াবেটিস হাসপাতাল হবে। স্থানীয় মানুষের কল্যাণে হাসপাতাল হবে, এটা শুনে তাদেরও ভালো লাগছে। কিন্তু তাদের সরকারিভাবে থাকার ব্যবস্থা না করলে তারা কোথায় যাবেন?
বৃদ্ধা লিলি বেগম জানান, ঝুপড়ি ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। এই অবস্থায় তাদের তাড়িয়ে দিলে কোথায় যাবেন?
প্রতিবেশী তরিকুল ইসলাম জানান, সরকারি জায়গা সরকারের প্রয়োজনে ব্যবহার করবে- এটাই স্বাভাবিক। তবে যারা দীর্ঘ সময় এই জায়গায় বসবাস করছেন এবং যাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। তাদের জন্য সরকারের কিছু করার রয়েছে।
এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান রিপন জানান, তারা সরকারিভাবে এখনো পরিবারগুলোকে উঠে যেতে বলেননি। তবে ওই স্থানে একটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জেনেছেন।
তিনি বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীনদের বাসগৃহ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর যে উদ্যোগ রয়েছে, এরা প্রকৃত ভূমিহীন হলে তাদের নামও তালিকাভুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন