মহেশপুরে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি

আপডেট: 07:18:09 16/01/2021



img

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। এক সময় ঘরে ঘরে ঢেঁকিতে ধান ভানা, চিঁড়া কুটা আর চালের গুঁড়া কুটার দৃশ্য প্রায়ই চোখে পড়তো।
কিন্তু কালের বিবর্তন আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে ঢেঁকি। বর্তমানে মানুষের প্রযুক্তিনির্ভরতা এবং কর্মব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় ঢেঁকির ব্যবহার এখন নেই বললেই চলে।
এই আধুনিক যন্ত্রপাতি আর প্রযুক্তির আড়ালে চাপা পড়ে গেছে গ্রামের সেই ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি। ‘ধান ভানি রে, ঢেঁকিতে পাড় দিয়া, ঢেঁকি নাচে আমি নাচি, হেলিয়া-দুলিয়া... ধান ভানি রে....’ গ্রাম-বাংলার তরুণী-নববধূ, কৃষানিদের কণ্ঠে এ রকম গান এখন আর শোনা যায় না। কালের বিবর্তনে ঢেঁকি এখন শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করে। ঢেঁকি বিলুপ্ত হলেও একে সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেই।
একসময় ভোরে আজানের সাথে সাথে স্তব্ধতা ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়তো ঢেঁকির শব্দ। পরিবারের নারীরা সে সময় দৈনন্দিন ধান, গম ও যব ভাঙার কাজ ঢেঁকিতেই করতেন। পাশাপাশি চিড়া তৈরির মতো কঠিন কাজও ঢেঁকিতেই করা হতো। বিশেষ করে শবেবরাত, ঈদ, পূজা, নবান্ন উৎসব, পৌষ পার্বণসহ বিশেষ বিশেষ দিনে পিঠা-পুলি খাওয়ার জন্য অধিকাংশ বাড়িতেই ঢেঁকিতে চালের গুঁড়া তৈরি করা হতো। অনেক দরিদ্র পরিবার আবার ঢেঁকিতে চাল ভাঙিয়ে হাট-বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। ঢেঁকিতে ভাঙা পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু চালের বেশ কদর ছিল।
সভ্যতার প্রয়োজনে ঢেঁকির আবির্ভাব ঘটেছিল। আবার গতিময় সভ্যতার যাত্রাপথে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
মহেশপুর পৌর এলাকার পাতিবিলা এলাকার মনোয়ারা বেগম বলেন, 'বিয়ের পর থেকেই ঢেঁকি দিয়ে বিভিন্ন খাদ্যদ্রবাদি মাড়াই করেছি। আগে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ঢেঁকিতে চালের আটা তৈরি করতে আসত। কিন্তু এখন আর তেমন কেউ আসে না। এখন সবাই মেশিনে চাল মাড়াই করে।'
সুফিয়া খাতুন নামে আরেক নারী বলেন, 'এক সময় গ্রামাঞ্চলে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছিল এই ঢেঁকি। তখন কদরও ছিল। এখন প্রতিটি বাড়িতে তো দূরের কথা, কয়েকটি গ্রাম মিলিয়ে একটি বাড়িতেও ঢেঁকি পাওয়া অসম্ভব।'
কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, হাতের কাছে বিভিন্ন যন্ত্র আর প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ায় ঢেঁকির মতো ঐতিহ্যবাহী অনেক কিছুই এখন হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় হয়তো সেসবের দেখা মিলবে কেবল জাদুঘরে।

আরও পড়ুন