মহম্মদপুরের ঘোপ বাঁওড়ে নয়ন জুড়ানো সৌন্দর্য

আপডেট: 07:17:02 02/02/2021



img

এস আলম তুহিন, মাগুরা: মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ঘোপ বাঁওড়ে প্রতিবছরের নির্দিষ্ট সময়ে শীতপ্রধান দেশ থেকে আসে বিপুল সংখ্যক অতিথি পাখি। এসব পাখির ঝাঁকে ঝাঁকে বিচরণ, কিচিরমিচির আর জলে ডানা ঝাপটানোর শব্দ ভেঙে দেয় নির্জনতা।
তাছাড়া, দেশীয় প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে গোটা এলাকা।
মাগুরার জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম বলেন, 'ঘোপ বাঁওড় মহম্মদপুরের অন্যতম সেরা জলাশয়। আমি নিজে সেখানে গেছি। এখানে তিনটি বৈশিষ্ট্য আছে, যা অন্য জলাশয়ে নেই। পানির নিচে অনেক সুন্দর আগাছা আছে। ধানের মতো মনে হয়। খুব স্বচ্ছ পানি এবং এখানে অতিথি পাখি আসে প্রতিবছর। সুতরাং, এটি জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে অবশ্যই অনন্য। এটিকে দেশের মানুষের কাছে প্রকাশ করতে হবে। এখানে আসার মতো কিছু ইমপ্লিমেন্ট আছে। যাতায়াতের ব্যবস্থা, বা এক ঘণ্টা থাকার ব্যবস্থা। টয়লেট থেকে শুরু করে অন্যান্য ফ্যাসিলিটিস। মাগুরাকে মানুষ বিশেষ কিছু দিয়ে চিনুক। সেই লক্ষ্যে আমরাও এটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেব, জীববৈচিত্র্য ঠিক রেখে।'
মহম্মদপুর উপজেলার নালিয়ার বিল, কাতলাশুরের বিল, ইছামতির বিল, ফলিয়ারবিলসহ বিভিন্ন খাল-বিল, জলাশয় ও নদীর অববাহিকায়ও দূর থেকে আসা এসব পাখির বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। বালিহাঁস, সারস পাখি, ডুবুরি পাখিসহ নানা অতিথি পাখির সাথে দেশীয় পাখির কলকাকলি ইছামতির বিল ও ঘোপ বাঁওড়ের সৌন্দর্যকে আরো মনোরম করে তোলে। এসব পাখির ঘুম ভাঙানি কলরবে ভোরের লেপজড়ানো ঘুম ভাঙে বিল-বাঁওড়বাসীর। নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু, নারী- পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ইতোমধ্যে আসতে শুরু করেছে। এসব এলাকা ঘুরে জানা যায়, এক শ্রেণির শিকারী আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এসব পাখি শিকার করছেন।
মহম্মদপুর নহাটা ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান মিয়া বলেন, 'আমাদের দেশে যেসকল অতিথি পাখি আসে সেগুলো আমাদের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অথচ কিছু অসাধু চক্র বিষটোপ, ফাঁদ পেতে এদেরকে হত্যা করে। আমাদের এই উপজেলায়ও অতিথি পাখি শিকার হচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব পাখি বীজের বিস্তরণ ও পরাগায়ণ ঘটিয়ে ফসলের উৎপাদনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।'
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল বলেন, 'ঘোপ বাঁওড় সংরক্ষণে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। এখানে প্রতিবছর শীতে অসংখ্য অতিথি পাখি আসে। এসব পাখি দেখতে বিভিন্ন স্থানের ভ্রমণপিপাসু মানুষ ছুটে আসে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের নজরদারিতে এসেছে।'

আরও পড়ুন