মণিরামপুরে শুরু হয়নি ধান কেনা, সময় চলে যাচ্ছে

আপডেট: 09:05:58 07/05/2020



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহের সময়সীমা পার হতে আর মাত্র ১৩ দিন বাকি। কিন্তু আজ পর্যন্ত সংগ্রহ অভিযান শুরুই করতে পারেনি মণিরামপুরের সংশ্লিষ্টরা।
গত ২৬ এপ্রিল থেকে মণিরামপুরে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার কথা ছিল। কবে নাগাদ ধান কেনা শুরু হবে, তাও বলতে পারছেন না খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা বলছেন, কৃষক আগ্রহী না হওয়ায় এবং ধানে আর্দ্রতা বেশি থাকায় তা কেনা শুরু করা যাচ্ছে না।
এই মৌসুমে মণিরামপুর খাদ্য গুদামের মাধ্যমে চার হাজার এক মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ করার কথা সরকারের। সেই লক্ষে ইউনিয়নভিত্তিক লটারির মাধ্যমে চার হাজার একজন কৃষক বাছাই করা হয়েছে। এই তালিকার কৃষকরা ১৫ জুলাই পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারবেন। এদের কেউ ব্যর্থ হলে ১৬ জুলাই থেকে অপেক্ষমাণ তালিকার দুই হাজার কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার কথা। ক্রয় কাজ চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
নির্বাচিত চাষিদের প্রথম তালিকা ইতিমধ্যে প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের দেয়ালে সেঁটে দেওয়া হয়েছে। তালিকায় স্থান পাওয়া প্রতি কৃষক এক টন করে ধান বিক্রি করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তারা মণপ্রতি দাম পাবেন এক হাজার ৪০ টাকা।
কৃষকদের হয়রানি কমাতে এবার তালিকাভুক্ত কৃষকদের জন্য সুখবর দিয়েছে সরকার। টনপ্রতি ২৬ হাজার টাকার বিপরীতে কৃষকরা বিনা সুদে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প থেকে অগ্রিম ২০ হাজার টাকা ঋণ নিতে পারবেন। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুযোগ বুঝে কৃষক গুদামে ধান দেবেন। আর গুদামে এসে কৃষক যেন হয়রানির শিকার না হন, সেই লক্ষে এবার কৃষক নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ধানের আর্দ্রতা মেপে নিতে পারবেন।
তবে কৃষকদের অভিযোগ, লটারিতে কার নাম স্থান পেয়েছে; কবে থেকে ধান নেওয়া হবে তার কিছুই জানেন না তারা।
এদিকে লটারিতে বিজয়ীদের তালিকা এখনো উপজেলা খাদ্য গুদাম চত্বরে সাঁটা হয়নি। ফলে আমন সংগ্রহের সময়ের মতো তালিকায় ভুয়া কৃষকের নাম স্থান পেয়েছে কিনা সেটা ভালোভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে, রোহিতা ইউপির এক নম্বর (স্মরণপুর-পট্টি) ওয়ার্ডের তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে, আমন সংগ্রহের তালিকার মতো এবারো ওই ওয়ার্ডের তালিকায় কয়েকটি নাম স্থান পেয়েছে, যারা ধান চাষ করেননি।
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, ‘লটারির তালিকায় আমার ওয়ার্ডের ১৩ জনের নাম আছে। যার মধ্যে পাঁচজন বোরো চাষ করেনি।’
যদিও চলতি মৌসুমে প্রকৃত বোরো চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনার নির্দেশনা রয়েছে সরকারের।
আমনে লোকসান হলেও এবারে শুরুতে ধানের দাম ভালো পাচ্ছেন কৃষকরা। বর্তমানে খোলাবাজারে ৭৭০ থেকে ৮৮০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করতে পারছেন কৃষক। সরকার কেনা শুরু করলে বাজারে ধানের দাম আরো বাড়বে বলে ধারণা ব্যবসায়ীদের।
এদিকে, খেদাপাড়া ইউপির সাত নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তায়জুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘কবে বোরো চাষিদের তালিকা হয়েছে বা লটারিতে ওয়ার্ডের কার কার নাম এসেছে তার কিছুই আমার জানা নেই।’
মণিরামপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন হোসেন খান বলেন, ধানের আর্দ্রতা বেশি থাকায় এবং কৃষক আগ্রহী না হওয়ায় কেনার কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। আবহাওয়া ভালো হলেই ধান কেনা শুরু হবে। বিষয়টি কৃষকদের জানান দেওয়ার জন্য আগামী সপ্তাহে মাইকিং করা হবে।
বোরো ধান ক্রয় কমিটির সভাপতি মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, লটারিতে তালিকায় স্থান পাওয়া কারো ব্যাপারে অভিযোগ থাকলে তদন্তপূর্বক তাকে বাদ দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ধান কেনা হবে।

আরও পড়ুন