মণিরামপুরে নিত্যপণ্যের দর ঊর্ধ্বমুখি

আপডেট: 08:39:59 22/03/2020



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : নিত্যপণ্য সংগ্রহের জন্য লোকজন বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়ায় মণিরামপুরে হঠাৎ করেই বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। সুযোগ বুঝে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে চাল, আলু, পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক। ফলে ভোগান্তি বেড়েছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম বস্তাপ্রতি বেড়েছে ৪০০-৫০০ টাকা।
রোববার দুপুরে মণিরামপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৩৬ টাকায়; যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৮ টাকার মতো। ব্রি-২৮ ধানের চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকায়; যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৬-৩৭ টাকা। এছঅড়া মিনিকেট চাল কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা; যা ক’দিন আগেও ছিল ৪০-৪২ টাকা।
দেশি পেঁয়াজের কেজি ৪৫-৫০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৫-৩০ টাকায়। রসুন আজ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা। সপ্তাহখানে আগে এর দাম ছিল ৪০-৫০ টাকা। আর আলুর দাম কেজিপ্রতি চার টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮-২০ টাকায়। মুদি দোকানিগুলোকে প্রায় সব পণ্য আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। বেড়েছে সবজির দামও।
মণিরামপুর চালবাজারের খুচরা বিক্রেতা মফিজুর রহমান বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় চাল সরবরাহের সংকট রয়েছে। বড় মোকামগুলোতো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাল মজুত করা হচ্ছে। করোনার জন্য ভারতীয় চাল বাজারে আসছে না। এছাড়া হঠাৎ করে লোকজন বেশি পরিমাণ চাল কিনছেন। এসব কারণে চালের দাম বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা দাম বাড়াচ্ছি না। যেমন কিনছি, তেমন বিক্রি করছি। নতুন ধান না ওঠা পর্যন্ত চালের দাম আরো বাড়তে পারে।’
কাঁচাবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আকতার হোসেন বলেন, শনিবারের তুলনায় আজকে (রোববার) রসুন ও পেঁয়াজের দাম কেজিতে দশ টাকা কমেছে। আজ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা এবং রসুন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৯০ টাকা।
এদিকে, বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেল শনিবার মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম বাজার পরিদর্শন করেন। দ্রব্যমূল্য স্থির রাখতে এবং প্রতিষ্ঠানে দ্রব্যমূল্যের তালিকা টানানোর জন্য ব্যবসায়ীদের তিনি পরামর্শ দিলেও তা মানছেন না অনেকে। রোববার বাজার ঘুরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রব্যমূল্যের তালিকা দেখা যায়নি।
বাজারের বড় মুদি ব্যবসায়ী প্রতাপ কুণ্ডু বলেন, করোনার জন্য চাহিদার তুলনায় বাজারে দ্রব্যের সংকট দেখা দিয়েছে। তাই জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেড়েছে।
দ্রব্যমূল্য টানানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘তালিকা প্রস্তুত করেছি। আজকে টানিয়ে দেবো।’
জানতে চাইলে মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, ‘শনিবার বাজার পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেছি। কোনোভাবে যেন জিনিসপত্রের দাম না বাড়ে সেজন্য তাদের সতর্ক করা হয়েছে। তাছাড়া প্রতি দোকানিকে দ্রব্যমূল্যের তালিকা টানিয়ে নিত্য আপডেট করতে বলা হয়েছে। আবার বাজার পরিদর্শনে গিয়ে যদি কোনো দোকানে দ্রব্যমূল্যের তালিকা পাওয়া না যায়, তাহলে সেই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন