মণিরামপুরে দুস্থদের তালিকায় সচ্ছলদের নাম!

আপডেট: 08:30:45 10/05/2020



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন গৃহবন্দি ও দুস্থদের ঈদ উপলক্ষে সরকারি সহায়তার জন্য মণিরামপুরে ১২ হাজার লোকের তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে তালিকা উপজেলা প্রশাসন হয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে। অধিক স্বচ্ছতার জন্য জমাপড়া তালিকা রোববার (১০ মে) শিক্ষকদের দিয়ে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। যাচাই করা তালিকায় উঠে এসেছে সচ্ছল, চাকরিজীবী ও প্রবাসীদের পরিবারের নাম।
অভিযোগ করা হচ্ছে, যারা তালিকা তৈরির কাজ করেছেন, তারাই দুস্থদের বঞ্চিত করে নিজের পরিবাররের এমনকি নিজের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন।
এমন অভিযোগ রয়েছে উপজেলার খেদাপাড়া ইউপির সাত নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করা হচ্ছে, ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মুকুল হোসেন ১৬ জনের নাম দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি কদমবাড়িয়া বিলপাড়া এলাকার বহু অসচ্ছল ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে নিজের বড়ভাই দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মতিয়ার রহমানের স্ত্রী নাছিমা খাতুন ও ছেলে সাগরের নাম দিয়েছেন। দিয়েছেন খুলনার কয়রা এলাকায় বিয়ে দেওয়া নিজের বোন শাহিনা সুলতানার নামও। যদিও শাহিনা সুলতানার স্বামী কামরুল ইসলাম ওই এলাকার একটি হাইস্কুলের বেতনভুক্ত শিক্ষক। লকডাউনের কারণে গত দুইমাস ধরে তিনি পরিবার নিয়ে মণিরামপুরের কদমবাড়িয়ায় শ্বশুরবাড়িতে আছেন। এখানেই শেষ নয়। মুকুল হোসেন তালিকায় তার শ্যালিকা খাদিজা খাতুনের নামও দিয়েছেন। যার স্বামী নূর নবী বিদেশে কর্মরত রয়েছেন। খেদাপাড়া ইউনিয়নের তালিকায় এদের সিরিয়াল নম্বর যথাক্রমে ৪৫৩, ৪৫৭, ৪৬১ ও ৪৬২।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যাদের নাম ফেয়ারপ্রাইস ও ভিজিডির তালিকায় রয়েছে, এমন পরিবারের কেউ এই তালিকায় স্থায় পাবেন না। সাত নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার তায়জুল ইসলাম এমন নামও দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রোববার এই তালিকা যাচাই-বাছাই করেছেন মাহমুদকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কদমবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও টেংরামারী হাইস্কুলের শিক্ষকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘কদমবাড়িয়া বিলপাড়ায় নয়টি নাম তদারকির দায়িত্ব পেয়েছি। তার মধ্যে ৪৪৯ ও ৪৫০ নম্বর সিরিয়ালের দুই ব্যক্তির হদিস ওই এলাকায় মেলেনি। এছাড়া বাকি সাতটি নামের মধ্যে তিনটি নাম একই পরিবারের। তারা শিক্ষকের স্ত্রী ও সন্তান।’
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার তায়জুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘আমি ২০ জনের তালিকা দিয়েছি। তাতে কোনো অভিযোগ পাওয়া যাবে না। বাকি তালিকা করেছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি-সেক্রেটারিসহ অন্যরা। তারমধ্যে সেক্রেটারি আব্দুর রহমান নিজের নাম দিয়েছেন।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেক্রেটারি আব্দুর রহমান আকিজ জুটমিলের শ্রমিক। কাজ বন্ধ থাকায় গত দুইমাস তিনি আর্থিক সংকটে ভুগছেন।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সাত নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মুকুল হোসেন বলেন, ‘আমি ১৬ জনের নাম দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। দুস্থ লোক খুঁজে না পেয়ে নিজের স্কুলশিক্ষক ভাইয়ের স্ত্রী ও ছেলে এবং নিজের বোনের (স্কুলশিক্ষকের স্ত্রী) নাম দিয়েছি। আর আমার শ্যালিকা খাদিজা খাতুনের যে নাম দিয়েছি তার স্বামী বিদেশে থাকলেও সে সহায়তা পাওয়ার যোগ্য।’
খেদাপাড়া ইউপি সচিব মৃণালকান্তি বলেন, ঈদের আগে সরকারিভাবে অসহায় ও কর্মহীন কিছু লোককে মোবাইলে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। তালিকায় চাকরিজীবী পরিবার, ফেয়ারপ্রাইস ও ভিজিডির সুবিধাভোগীদের নাম দেওয়া যাবে না। খেদাপাড়া ইউনিয়ন থেকে ৭৩২ জনের তালিকা জমা পড়েছে। সেই তালিকা আবার যাচাই-বাছাই হচ্ছে।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মণিরামপুরের ১২ হাজার লোকের তালিকা চাওয়া হয়েছে। যার মধ্যে পৌর এলাকার এক হাজার ও বাকি ১৭টি ইউনিয়ন থেকে ১১ হাজার নাম পাঠানো হয়েছে। তালিকা আবার যাচাই-বাছাই হচ্ছে। যেসব নামের ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেগুলো বাদ দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন