মণিরামপুরে ঠান্ডারোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

আপডেট: 08:14:44 11/09/2021



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর): মণিরামপুরে হঠাৎ করে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। প্রতিদিনই শতাধিক শিশু জ্বর, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছে। নিত্য ভর্তি হচ্ছে ১৫-২০ জন।
মণিরামপুর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অনুপ বসু বলছেন, দিনে গরম আর ভোররাতে কুয়াশা পড়ছে। আবহাওয়া পরিবর্তন হওয়ায় শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গেল এক সপ্তাহে হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে চাপ বেড়েছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৯০-১০০ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে।
এদিকে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবাপ্রাপ্তি নিয়ে রয়েছে নানা অতৃপ্তি। নামমাত্র কিছু ওষুধ হাসপাতাল থেকে দেওয়া হচ্ছে। বাকি ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন রোগীর স্বজনরা। তাছাড়া সেবিকাদের বিরুদ্ধে খারাপ আচরণের অভিযোগ তো রয়েছেই।
শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গেলে এসব অভিযোগ করেন তারা।
হাসপাতালের ১২ নম্বর বেডের শিশু ইব্রাহীমের মা শিরিনা খাতুন বলেন, ‘বেশ কদিন ধরে ছেলেটার জ্বর, কাশি ও বমি। গেল বৃহস্পতিবার হাসপাতালে আইছি। একটা ইনজেকশন (এন্টিবায়োটিক) হাসপাতাল থেকে দেছে। বাকি ওষুধ কিনতি হচ্ছে।’
ইব্রাহীমের পাশের বেডে আড়াই বছর ও সাত মাস বয়সী দুই ছেলেকে নিয়ে আছেন খাদিজা খাতুন। তিনি বলেন, ‘৮-৯ দিন ধরে বড় ছেলে আল জামিলে নিয়ে হাসপাতালে আছি। ওর জ্বর ও কাশি। তার তিনদিন পরে ছোট ছেলে আব্দুর রহমান অসুস্থ হয়। বড় ছেলেরে ভর্তি নেছে। হাসপাতাল থেকে তারে দুপুরে একটা করে ইনজেকশন দেচ্ছে। আর ছোট ছেলেরে ভর্তি নেয়নি ডাক্তার। ওরে ওষুধ লিখে দেছে। কিনে আইনে খাওয়াচ্ছি। আমার স্বামী গরিব; কাঠমিস্ত্রি। এই পর্যন্ত চার হাজার টাকার ওষুধ কিনতি হইছে।’
হাজরাকাটি গ্রামের লিটন হোসেন বলেন, ‘ছেলে আল রাফসানের বয়স ২৮ দিন। ওর খুব বুকে চাপ। শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনিছি। কোনো ওষুধ দেয়নি। গ্যাস পর্যন্ত কিনে আইনে দিতে হইছে।’ লিটনের অভিযোগ, নার্সদের ব্যবহার ভালো না। তাদের ডাকলে ঠিকমতো পাওয়া যায় না।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স বন্দনারানী বলেন, ‘এক রোগীর সাথে অনেক লোকজন এসে হাসপাতালে ভিড় করে। তাদের সরতে বললেও যায় না। উল্টো নার্সদের সাথে খারাপ আচরণ করে। তখন আমরা কিছু বললে দোষ হয়।’
বন্দনা আরও বলেন, হাসপাতালে স্যালাইন, জ্বর, ঠান্ডা, পায়খানার সিরাপ এবং এন্টিবায়োটিক সিরাপ আছে; যা রোগীদের দেওয়া হচ্ছে।
মণিরামপুর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অনুপ বসু বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এদের কেউ করোনা আক্রান্ত হচ্ছে না। এখানে করোনা পরিস্থিতি বেশ ভালো। নিয়মিত ১০-১৫ জনের পরীক্ষা করে ১-২ জনের করোনা শনাক্ত হচ্ছে। বর্তমানে উপজেলায় ১৩ জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ড. শুভ্রারানী দেবনাথ বলেন, ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতাল থেকে পাচ্ছে। অনেক সময় হাসপাতালের ওষুধে কাজ হয় না। বাইরে থেকে কেনাতে হয়।

আরও পড়ুন