ভুয়া কাগজে ব্যাংকের টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারকরা

আপডেট: 08:56:34 01/03/2020



img

সামিউল মনির, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) : জালিয়াতি করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক শ্যামনগর শাখা থেকে সাত লাখেরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারকচক্র।
জমির ভুয়া কাগজ প্রদর্শন করে প্রায় এক বছর আগে চার কিস্তিতে ওই টাকা উত্তোলন করা হয়। সংশ্লিষ্ট মৌজা ও খতিয়ানে কোনো জমি না থাকলেও নকল কাগজ তৈরি করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের চোখে ধুলো দেওয়া হয়।
আতাউর রহমান ও জিয়াউর রহমান নামে দুই ভাই ৪১৬, ৪৬৮, ১২২ ও ৮৯ নম্বর ব্যাংক কেসের অনুকূলে সাত লাখ চল্লিশ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। তারা দুইজন শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের গোমানতলী গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নভেম্বর ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি সময়ের মধ্যে ভাই অজিয়ার ও আতাউরের স্ত্রী ফিরোজাসহ পরিবারের সাত সদস্যরের নামে ওই টাকা উত্তোলন করা হয়। ২০/১১/১৮. ২৫/১১/১৮, ০৪/১২/১৮ এবং ০৭/০২/১৯ তারিখে উত্তোলন করা টাকার জন্য আটুলিয়া মৌজায় ৭৪৬, ৭৪৭ ও ৭৪২ নম্বর এস এ খতিয়ানে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৮.৯২ একর জমির মালিকানার কাগজপত্র জমা দেন তারা।
কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটুলিয়া মৌজায় তাদের নামে এক শতকও জমি নেই।  উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের যে পরচা ও ডিপি খতিয়ান ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে সেগুলোও জাল। এই জালিয়াতির সঙ্গে ব্যাংকের কোনো না কোনো কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, এক বছর মেয়াদী ঋণ প্রস্তাবের অনুকূলে এসব টাকা উত্তোলন করা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো টাকা ফেরত দেয়নি প্রতারক চক্র। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও প্রদত্ত ঋণের টাকা আদায়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের তৎপরতাও চোখে পড়েনি।
এবিষয়ে আতাউর রহমান বলেন, ‘আমার আব্বা যে কাগজপত্র দিয়ে ইতিপূর্বে ঋণ নিত, আমি সেগুলো জমা দিয়ে ঋণ নিয়েছি।’
জমির মালিকানার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগের ফাইলে থাকা খাজনার দাখিলা দেখিয়ে আটুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে নতুন দাখিলা গ্রহণ করি।’
এবিষয়ে কৃষি ব্যাংকের ঋণ কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ বলেন, কিছুদিন আগে তিনি এই এলাকার দায়িত্ব পাওয়ায় ঋণের দায় তার নয়।
ঋণ প্রদানকারী কর্মকর্তা মাসুদুল কবীর জানান, আতাউর রহমানের বাবার নামে ঋণ সংক্রান্ত ফাইল দেখে তিনি তা নবায়ন করেছেন মাত্র। তবে খাজনা পরিশোধের রশিদ যথাযথ ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
কৃষি ব্যাংকের শ্যামনগর শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল জলিল প্রামানিক জানান, চার মাস আগে তিনি এই শাখায় যোগদান করায় প্রদত্ত ঋণের বিষয়ে কিছু জানেন না। চার-পাঁচ দিন আগে বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর তিনি তদন্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

আরও পড়ুন