ভুল স্বীকার পুলিশের, জামিন পেলেন ‘তোতলা মিজান’

আপডেট: 09:19:01 22/01/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : জামিন হলো মিজানুর রহমানের; যিনি তোতলা মিজান নামে পরিচিত। পুলিশের ভুলে গ্রেফতার হয়ে তিনি কারাগারে ঢুকতে বাধ্য হয়েছিলেন।
আর মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে পাগলা মিজান এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
একই নামের অন্য ব্যক্তিকে মামলায় অভিযুক্ত বানিয়ে গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে বুধবার স্থানীয় বেশ কয়েকটি পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এরপরই সেই ভুল মিজানুনের জামিন আজ আদালত মঞ্জুর করেছেন। আর ভুল স্বীকার করেছে পুলিশ।
গত ২১ জানুয়ারি ভোররাতে যশোর কোতয়ালী পুলিশের এএসআই আল মিরাজ খান শহরতলীর সুজলপুর সরদারপাড়া থেকে গ্রেফতার করেন মিজানুর রহমান ওরফে তোতলা মিজানকে। সেদিনই তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।  যে মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়, সেই মামলার এক আসামির নামও মিজানুর রহমান। স্থানীয়ভাবে তিনি পাগলা মিজান হিসেবে পরিচিত।
তোতলা মিজানের বাবার নাম নূরুল ইসলাম। তিনি মুক্তিযোদ্ধা এবং সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। পাগলা মিজানের বাবার নাম নূরুল হক হাওলাদার, তিনিও মারা গেছেন। পাগলা মিজানের বাড়ি শহরতলীর সুজলপুর গ্রামের হঠাৎপাড়ায়; আর তোতলা মিজানের বাড়ি একই গ্রামের সরদারপাড়ায়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি সদর উপজেলার সুজলপুর জামতলায় রড ফ্যাক্টরির সামনে খোলাডাঙ্গা গ্রামের সাগর, তাহের, সুজলপুর গ্রামের মিজানুর রহমান ওরফে পাগলা মিজান, নাজু, জাহাঙ্গীর, রিপন, রনি ও রবিউলসহ ১০-১২ জন কিছু পোস্টার টানাতে যান। এ সময় সুজলপুর গ্রামের আব্দুস সালাম মিঠু তাদের পোস্টার লাগাতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আব্দুস সালাম মিঠুকে লক্ষ্য করে কয়েকটি বোমা নিক্ষেপ করেন। সালামের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে সাগর ও তাহেরকে দুটি বোমাসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
ওই ঘটনায় আব্দুস সালাম মিঠু আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো দুইজনের বিরুদ্ধে যশোর কোতয়ালী থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করেন থানার তৎকালীন এসআই সোলায়মান আক্কাস। সর্বশেষ মামলাটি তদন্ত করে আটজনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন থানার এসআই হায়াৎ মাহমুদ খান। মামলার পর থেকে মিজানুর রহমান ওরফে পাগলা মিজান পলাতক রয়েছেন।
পাগলা মিজানের মা ফকরুন্নেছা সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘মিজান গাঁজা খেতো। তিন-চার বছর ধরে সে স্ত্রী ও ছেলে-মেদের নিয়ে ঢাকায় থাকে। আমাদের সাথে তার কোনো যোগোযোগ নেই। আমাদের খোঁজখবরও সে রাখে না।’
মিজানুর রহমান ওরফে তোতলা মিজানের মেজভাই আব্দুর রহিম বলেন, মিজান পাইপমিস্ত্রি। তার বিরুদ্ধে অনেক আগে একটা মামলা ছিল। সেটা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। গত সোমবার সকালে মিজানের প্রথম সন্তান হয়। এদিন সারাদিন সে প্রসূতি ও তার সন্তানকে নিয়ে ব্যস্ত ছিল। রাত আটটার দিকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফেরে। মঙ্গলবার ভোররাতে পুলিশ দেয়াল টপকে বাড়িতে ঢুকে মিজানকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। আমরা পুলিশকে মিজানের এনআইডি কার্ড দেখাতে চাই। কিন্তু পুলিশ আমাদের কোনো কথা শোনেনি।’
কোতয়ালী থানার এএসআই আল মিরাজ খান সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘দুইজনের নামের মিল থাকায় ভুল করে এক মিজানের বদলে আরেক মিজানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে পাগলা মিজান। তিনি মাদক ব্যবসায়ী, পলাতক রয়েছেন। মিজানুর রহমান ওরফে তোতলা মিজান নির্দোষ। তাকে ভুল করে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ আদালতে তার জামিনের জন্যেও প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।’
তিনি তোতলা মিজানের পরিবারের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন। 
মিজানুর রহমানের আইনজীবী রেজিনা ইয়াসমিন বলেন, বিভ্রান্তির কারণে পুলিশ আরেকজন আইনজীবীকে নিয়োগ করে পিটিশন দাখিল করে আদালতে। আমিও পিটিশন দাখিল করি। আদালত আমার মক্কেলকে জামিন দিয়েছেন।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথে সেটি খতিয়ে দেখা হয়। এরপর আজই ‘মিজানুর রহমান মামলার প্রকৃত আসামি নন’ মর্মে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়। আদালত তাকে জামিনে মুক্তি দিয়েছেন। এছাড়া, ভুলের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন