ভিজিডি তালিকায় 'অনিয়ম', চৌগাছায় ইউডিসিতে তালা

আপডেট: 07:45:06 01/12/2020



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছায় ভিজিডি কার্ডের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদ ডিজিটাল সেন্টারে তালা মারার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারে তালা মেরে দেন ওই ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের (জগন্নাথপুর) ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম। এ সময় অন্য ইউপি সদস্যরাও সেখানে ছিলেন।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ডিজিডি কার্ডের আওতায় আনার জন্য উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নতুন করে হতদরিদ্র নারীদের তালিকা করা হচ্ছে। সিংহঝুলি ইউনিয়নে ১৯২ জন নারীকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা। পরিষদের মিটিংয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহীম খলিল বাদল ইউনিয়নের প্রত্যেক মেম্বারকে ৯-১০ জনের নাম তালিকা দেয়ার জন্য বন্টন করে দেন। বাকিগুলো চেয়ারম্যান নিজে দেবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়। সে মোতাবেক ইউনিয়নের ৪নম্বর জগন্নাথপুর ওয়ার্ডের মেম্বার শহিদুল ইসলামকে দশটি কার্ডের তালিকা দিতে বলা হয়। তিনি দশজনের তালিকা দিলেও চেয়ারম্যানের নির্দেশে সে তালিকা থেকে মাত্র তিনজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং সাতজনকে বাদ দেওয়া হয়। একইভাবে মসিয়ূরনগর গ্রামের মেম্বার জামাল উদ্দিনকেও দশজনের তালিকা দিতে বলা হয়। তার তালিকা থেকেও সাতজনকে বাদ দেওয়া হয়।
সূত্র মতে, ইউনিয়নের প্রায় প্রত্যেক মেম্বারের তালিকা থেকেই এভাবে নাম বাদ দিয়ে চেয়রম্যান নিজের পছন্দমতো ব্যক্তিদের তালিকা করেন। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা এগুলো উল্টোপাল্টা করেছে। এনিয়ে চেয়রম্যানের সাথে মেম্বারদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরে ক্ষুব্ধ হয়ে চার নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শহিদুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদ ডিজিটাল সেন্টারে তালা মেরে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুুক দু’জন ইউপি সদস্য জানান, সম্প্রতি সরকারি ভাবে দেয়া কম্বলও চেয়ারম্যান এভাবে নিজের ইচ্ছামত বিতরণ করেছেন। তারা আরো জানান, ২০১৬ সালের ৪ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন চেয়ারম্যান ইব্রাহীম খলিল বাদল। এরপর থেকেই সমন্বয় না করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় ইউপি মেম্বাররা চেয়ারম্যানের উপর ক্ষুব্ধ। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সেটার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ডিজিটাল সেন্টারে তালা মারার এই ঘটনা ঘটলো।
মেম্বার শহিদুল ইসলাম তালা মারার বিষয়টি স্বীকার করলেও তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।
ইউপি সদস্য জামাল হোসেন বলেন, ‘আমাকেও দশজনের নামের তালিকা দিতে বলা হয়েছিল। সেখান থেকে মাত্র তিনজনের নাম অনলাইনভুক্ত হয়েছে। এখন অন্য দুঃস্থরা বঞ্চিত হলো। আমরা তাদের কাছ থেকে (দুঃস্থ নারীদের) ছবি, আইডি কার্ড নিয়েছি। তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি কার্ড হবে। এখন যদি না হয় তাহলে আমাদের সম্মানটা  কোথায় থাকলো? এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়েই ইউডিসির কক্ষে শহিদুল মেম্বার তালা মেরে দিয়েছেন।’
এবিষয়ে বক্তব্য নিতে ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহীম খলিল বাদলের নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন