ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সেতু

আপডেট: 06:34:30 17/11/2020



img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : মৃত্যুপথযাত্রী স্বামীকে বাঁচাতে কিডনি দিয়ে ভালোবাসার নজির গড়লেন ঝিনাইদহের গৃহবধূ সেতু খাতুন। বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তারা।  এবং তারা দুজনই শংকামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ।
এদিকে সেতু খাতুনের কিডনি দেয়ার ঘটনাটি তার এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ সবাই।
সেতু খাতুন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাতিভাঙ্গা গ্রামের হবিরর রহমানের মেয়ে।
রাশিদুল ইসলামের চাচাতো ভাই সবুজ হোসেন জানান, সাড়ে তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে রাশিদুলের সঙ্গে সেতু খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর আনসার সদস্য রাশিদুল ইসলামের সঙ্গে ভালোই চলছিল সংসার জীবন। আকস্মিকভাবে তিন মাস আগে রাশিদুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার দুটো কিডনিই বিকল হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান। বাঁচতে হলে যেভাবেই হোক তার একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। কিন্তু কে তাকে একটি কিডনি দেবে? তাছাড়া তার মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষেও কিডনি সংগ্রহ করা অসম্ভব ছিল। এ অবস্থায় স্বামীর জীবন বাঁচাতে কিডনি দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন সেতু খাতুন।
সবুজ হোসেন আরো জানান, পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাদের কিডনি ম্যাচিং হওয়ায় গত ১২ নভেম্বর ঢাকার শ্যামলী এলাকার তিন নম্বর সড়কের সিকেডি কিডনি হাসপাতালে তাদের অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে স্বামী ও স্ত্রী দুজনই শংকামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে রাশিদুল ইসলাম আইসিইউতে আর সেতু খাতুন জেনারেল বেডে আছেন চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের ভালোবাসা পরিবারসহ তাদের এলাকায় দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। এজন্য সকলে সেতু খাতুনের প্রশংসা করছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার প্রশংসা করা হচ্ছে।’
সেতুর মা নুরনাহার বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে তার স্বামীর জন্য যা করেছে তাতে আমরা খুশি। আমি তার সুস্থ পারিবারিক জীবনের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করি।’
এদিকে সেতু খাতুন বলেন, ‘মা-বাবা পছন্দ করে বিয়ে দিয়েছে। বিয়ের পর আমি তাকে জানতে ও বুঝতে শুরু করি এবং তাকে মন থেকে ভালোবাসি। আমাদের একটি সন্তান আছে, বিয়ের পর আমার স্বামীকে বলেছিলাম মরলে একসাথে মরব, বাঁচলে একসাথেই বাঁচব। আমার স্বামী যদি মারা যায় তাহলে আমি কাকে নিয়ে বাঁচব? তাই আমি আমার স্বামীকে কিডনি দিয়েছি। দুইজনকে একটি করে কিডনিতে আল্লাহ যতদিন বাঁচিয়ে রাখেন; ততদিন ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।’