ভারত থেকে ফিরলো ২০ তরুণ-তরুণী

আপডেট: 12:43:23 08/10/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর): বিভিন্ন সময় ভালো কাজের আশায় ভারতে পাচার হওয়া ২০ বাংলাদেশি তরুণ-তরুণী দুই থেকে তিন বছর পর দেশে ফিরেছে। এদের মধ্যে নয়জন তরুণ ও ১১ জন তরুণী রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভারতের কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি ডেপুটি হাই কমিশনার (রাজনৈতিক) শামীমা ইয়াসমিন স্মৃতি।
বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) বিকেল চারটার দিকে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করে। ফিরে আসা তরুণ-তরুণীদের বাড়ি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়।
পাচার প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা এনজিও ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ তাদের গ্রহণ করেছে। পরে পরিবারের কাছে এদের হস্তান্তর করা হবে।
নড়াইল জেলার ইকবাল ফকিরের ছেলে হাসিব ফাকির (১৭), মাসুদ মোল্যার ছেলে সবুজ মোল্যা (১০) ও সুমন মোল্যা (১৪), নারায়ণগঞ্জ জেলার সেলিম মিয়ার ছেলে সুইটি ইসলাম (১৭), শরিফুল ইসলামের মেয়ে সুমি খাতুন (১৪), সুইট খাতুন (১৪), অপর্ণা (১৬), রাফেজা খাতুন (২০), রাবেয়া খাতুন (২১), বাগেরহাট জেলার জাবেদ আলী (১৫), হাসান মাহমুদ (১৩), খুলনা জেলার সাজিদ হোসেন (১৪), লক্ষ্মীপুর জেলার আদনান (১৫), নোয়াখালী জেলার বাপ্পি হাসান (১৩), যশোর জেলার নুর খাতুন (১৪), মুক্তা মোল্যা (১৩), ঈষিতা (১৩), শেরপুর জেলার মৌসুমি খাতুন (১৭),  সুমাইয়া খাতুন (২১), সাতক্ষীরা জেলার ফাতেমা খাতুন (২১) এবং বরিশাল জেলার মেঘলা রায় (২১) এদিন ফিরে আসে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের যশোর শাখার সিনিয়ার প্রোগ্রাম অফিসার মুহিত হোসেন জানান, সংসারে অভাব অনটনের কারণে বিভিন্ন সময় ভালো কাজের প্রলোভনে ফেলে দালালরা এদের ভারতে পাচার করে। পরে ভালো কাজ না দিয়ে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে তাদের ব্যবহার করে। পরে ভারতীয় পুলিশ খবর পেয়ে তাদের পাচারকারীদের খপ্পর থেকে উদ্ধার করে আদালতে পাঠায়। সেখান থেকে  তাদের আশ্রয় হয় ভারতীয় এনজিও’র শেল্টার হোমে। পরে কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপ হাইকমিশন তাদের দেশে ফেরার বিষয়ে তৎপরতা শুরু করে।  উদ্ধার তরুণ-তরুণীরা বাংলাদেশি কিনা তা যাচাই করে কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষে  ভারত সরকারের ট্রাভেল পারমিটে আজ বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে আসে এই ২০ বাংলাদেশি।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি রাজু আহম্মেদ বলেন, সেখানে অবৈধভাবে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে কাজ করার সময় পুলিশ তাদের আটক করে এবং আদালতে পাঠায়। সেখান থেকে ‘পশ্চিম বাংলার সাতটি এনজিও তাদের ছাড়িয়ে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং বিভিন্ন শেল্টার হোমে রাখে। পরে তাদের সার্বিক সহযোগিতায় দুই-তিন বছর পর তাদের দেশে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।

আরও পড়ুন