ভারতে তথ্য পাচার : কনস্টেবল দেবপ্রসাদ ফের রিমান্ডে

আপডেট: 10:15:51 25/11/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগে আটক পুলিশ কনস্টেবল দেবপ্রসাদ সাহার আবারো দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
দেবপ্রসাদ সাহা খুলনার তেরখাদা উপজেলা শহরের সুরেন্দ্রনাথ সাহার ছেলে।
বুধবার জুডিসিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র বিচারক গৌতম মল্লিক রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এর আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর দশ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দেবপ্রসাদ সাহা ঢাকার উত্তরা এক নম্বর আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নে চাকরির সুবাদে ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত বেনাপোল ইমিগ্রেশনে চাকরি করতেন। সেখানে চাকরি করাকালে তিনি ভারতের অনেকের সঙ্গে ‘অনৈতিক’ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। যে কারণে তিনি যখন-তখন নো-ম্যানসল্যান্ড অতিক্রম করে ভারতে যাওয়া-আসা করতেন। ইমিগ্রেশনে দায়িত্ব পালনকালে সেনাবাহিনীর অফিস সহকারী ও এক সৈনিকের সঙ্গে তার পরিচয় ও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা দুইজন বেনাপোলে মাঝে-মধ্যে এসে ভারতের এস চক্রবর্তী ও পিন্টু নামে দুইজনের কাছে বাংলাদেশের গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করতেন।
২০১৮ সালের শেষের দিকে দেবপ্রসাদ সাহা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসম্বলিত একটি পেনড্রাইভ নো-ম্যানসল্যান্ড পার হয়ে ভারতে পাচার করেন। ১৫ দিন পর আবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসম্বলিত পেনড্রাইভ ভারতের এস চক্রবর্তী ও পিন্টু নামে দুই ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করে দেবপ্রসাদ সাহা। গত ২৫ অক্টোবর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ওই সেনাসদস্য আটক হন। এসময় তার কাছ থেকে একটি পেনড্রাইভ উদ্ধার হয় এবং ভারতে তথ্য পাচারের বেশ কিছু তথ্য দেন তিনি।
পরে বিষয়টি পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে অনুসন্ধানে নামে। তদন্তে তাদের মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও ভারতের একজন পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আরেফের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও সিডির মাধ্যমে দেশের তথ্য পাচারের বিষয়টি উঠে আসে। ফলে সেনা সদস্য ও অফিস সহকারীর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে ভারতে তা পাচারের বিষয়টিও দেবপ্রসাদ স্বীকার করেছেন। তারা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন খান রাষ্ট্রদোহিতার অভিযোগে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্য দেবপ্রসাদ সাহাকে আসামি করে ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর মামলা করেন। মামলার পর দেবপ্রসাদকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনসের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী আবু সাঈদ গত ১৫ সেপ্টেম্বর আসামি দেবপ্রসাদ সাহার পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। বুধবার আসামি দেবপ্রসাদের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

আরও পড়ুন