ভাঙনে বদলে যাচ্ছে শালনগরের মানচিত্র

আপডেট: 02:50:27 13/09/2021



img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল): লোহাগড়া উপজেলায় মধুমতি নদী ভাঙনের ফলে শালনগর ইউনিয়নের মানচিত্র পাল্টে যাচ্ছে।
অব্যাহত ভাঙনের ফলে ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ বছর আরও দশটি গ্রামে নদীভাঙন চলছে। এ সমস্ত গ্রামের লোকজন নদীর ওপারে ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ও বুড়াইচ ইউনিয়নে আশ্রয় নিয়েছেন।
ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মধুমতি নদীর তীরবর্তী শালনগর ইউনিয়নের রামকান্তপুর, শিয়েরবর গ্রাম ও হাট, চরআজমপুর, মণ্ডলবাগ, চরগোপালপুর খেয়াঘাট, চাকশী, নওখোলা মিয়াপাড়া, চরশালনগর, কাশিপুর, মাকড়াইল ও চরমাকড়াইল, রামচন্দ্রপুর এলাকায় বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও পাকা রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে।
এ সব গ্রামে বসবাসকারী লোকজন নদীভাঙনের ভয়ে তাদের বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন। বিভিন্ন ধরনের গাছপালা কেটে কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন।
মাকড়াইল গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশ ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। ওই গ্রামে অবস্থিত একটি কোম্পানির মোবাইল টাওয়ার সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শিয়েরবর হাট রক্ষার জন্য নদীতে বালির বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি নদীভাঙন তীব্র আকার নেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী হাটটি। যে কোনো সময় হাটের একটি বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
একই রকম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে নওখোলার আল-হেরা দাখিল মাদরাসা, চাকশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রামচন্দ্রপুর গ্রামের একটি মসজিদসহ শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি।
ভাঙনের শিকার মণ্ডলবাগ গ্রামের নূর মোহাম্মদ ও কামরুল শেখ বলেন, এ বছর মধুমতি নদীর পাড় ভেঙে গ্রামের পাকা রাস্তা, বসতবাড়ি, গাছগাছালি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে।
চরখোলাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা জিন্না মিয়া, সাত্তার মিয়াসহ অনেকে জানান, ওই গ্রামসহ পাশের নওখোলা, চরশালনগর, চরকাশিপুরের দুই শতাধিক পরিবার বাড়িঘর সরিয়ে নিয়ে নদীর ওপারে বসবাস শুরু করেছেন।
শিয়েরবর হাট রক্ষা ও নদী শাসন কমিটির সভাপতি সৈয়দ আশরাফ আলী জানান, এই মুহূর্তে হাট ও গ্রামগুলো রক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এলাকার মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে শালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খান তসরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মধুমতি নদী ভাঙনের ফলে ইউনিয়নের কাতলাশুর, চরগোপালপুর, চাকশী, চরখড়কদিয়া, চরশালনগর, চরমাকড়াইল গ্রামের বেশির ভাগ মানুষের জমিজমা হারিয়ে গেছে। বাসিন্দারা নদীর ওপাওে গিয়ে ঘরবাড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন। তারা সেখানকার ভোটারও হয়ে গেছেন। এভাবে নদীভাঙনের ফলে ইউনিয়নের পুরনো মানচিত্র পাল্টে গেছে।
নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী স্বপনকুমার জানান, ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন