ব্যারিকেডের আড়ালে অপকর্ম! সরানোর নির্দেশ

আপডেট: 09:09:37 09/04/2020



img
img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : করোনাভাইরাসরোধে বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে মণিরামপুর শহরের বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় দেওয়া ব্যারিকেড সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফী। বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিন তিনি মোহনপুর এলাকায় গিয়ে এই ব্যারিকেড সরাতে বলেন।
ইউএনওর নির্দেশনা পেয়ে মোহনপুর এলাকার কয়েকটি পয়েন্টে ব্যারিকেড তুলে দেওয়া হয়। তবে সন্ধ্যায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তুলে দেওয়া ব্যারিকেডের মধ্যে আবার কয়েকটি স্থাপন করা হয়েছে। আর দুর্গাপুর ও তাহেরপুর এলাকার ব্যারিকেড এখনো রয়ে গেছে।
মোহনপুর যুবসমাজের পক্ষ থেকে সুমন নামে এক যুবক জানান, ইউএনওর কথা শুনে কয়েকটি ব্যারিকেড সরানো হয়েছে। কেউ কেউ আবার ব্যারিকেড রাখার পক্ষে। তারা ব্যারিকেড সরাতে নিষেধ করছেন। এইজন্য সব সরানো যায়নি।
করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে নিজেদের নিরাপদ রাখতে যুবসমাজের উদ্যোগে বুধবার সকাল থেকে শহরের মোহনপুর, তাহেরপুর, বিজয়রামপুর ও দুর্গাপুর ওয়ার্ডের প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে এলাকাগুলো স্থানীয়ভাবে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেন ইউএনও।
কিন্তু অভিযোগ ওঠে, লকডাউনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকাগুলোতে কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা ব্যারিকেডের ভেতর বিভিন্ন পয়েন্টে দোকানপাট খোলা রেখে লোকসমাগম করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বসছে তাসের আসর।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে মণিরামপুর বাজার জনশূন্য হয়ে পড়েছে। লোকজন বাজারে যেতে না পেরে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হচ্ছেন। পৌর এলাকার দুর্গাপুর জামাইপাড়ার দোকানগুলোতে সন্ধ্যের পর ব্যাপক লোকসমাগম ঘটছে। মোহনপুর এলাকার মহিলা কলেজের পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশে, আদ-দ্বীন ওয়েলফেয়ারের সামনের পাড়ায় দুটি স্থানে সন্ধের পরে তাসের আসর বসছে। এছাড়া মোহনপুর হরিহর নদীর ধারে খোকনের চরে চা দোকান বসেছে। গভীররাত পর্যন্ত সেখানে তাসসহ লোকজনের আড্ডা বসছে। আড্ডা চলে পোস্ট অফিস মোড়েও। মোহনপুর শ্মশানের ধারে হরিহর নদীর পাড়ে বিকেল হলেই বসছে তাসের আসর।
ওই সব স্থানে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুফলচন্দ্র গোলদারের নেতৃত্বে মোহনপুর পোস্ট অফিসপাড়াসহ কয়েকটি পয়েন্টে সেনা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
জানতে চাইলে ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, ব্যারিকেড নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ আসছে। এলাকাগুলোর কাউন্সিলরদের সঙ্গে কথা বলে সেগুলো সরাতে বলা হয়েছে। করোনারোধে নিজেদের এলাকা রক্ষায় যুবকদের সচেতন থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লোকসমাগম হওয়ার স্থানগুলোতে সেনা অভিযান পরিচালনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন