ব্যাগিং পদ্ধতিতে সফল কুলচাষি আব্দুল গনি

আপডেট: 06:47:03 20/01/2020



img
img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে দেশের কৃষি। টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে কৃষিতে।
এরকমই এক প্রযুক্তি বাউকুলে পলিথিনের ব্যবহার। এ পদ্ধতিতে ৬-৭টি কুলে এক কেজি ওজন হচ্ছে। দামও পাওয়া যাচ্ছে ভালো। সনাতন পদ্ধতিতে উৎপাদিত বাউকুল বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৭০ টাকা দরে। আর পলিথিন পদ্ধতিতে উৎপাদিত কুল প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার আব্দুল গনি নামে এক কৃষক বাউকুলে পলিথিন ব্যবহারকারী সফল চাষি। আব্দুল গনি হেলাতলা এলাকায় দশ বিঘা জমিতে পলিথিন ব্যবহার করেন। ফল পলিথিনে মোড়া থাকায় কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজনও হচ্ছে না। বিষমুক্ত এই কুল সাধারণ বাউকুলের চেয়ে মিষ্টি ও নরম। যে কারণে বাজারে চাহিদাও বেশি।
আব্দুল গনি বলেন, ‘গত দশ বছর ধরে বাউকুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির কুল ও পেয়ারার চাষ করে আসছি। কিন্তু গত বছর আর এ বছর আমার দশ বিঘা জমির কুলে পলিথিনের ব্যাগিং করছি।’
পেয়ারায় পলিথিন পদ্ধতি ব্যবহার করে যদি ভালো উৎপাদন হয়, তাহলে কুলে পলিথিন ব্যবহারে ভালো ফলন হওয়ার কথা- এমন চিন্তা থেকে এ বছর তিনি বাগানজুড়ে কুলে পলিথিন মুড়িয়েছেন। কিছুদিনের মধ্যে খুব ভালো ফলাফল লক্ষ্য করেন। পলিথিন বাঁধা, কুল সংগ্রহ ও পরিচর্যার কাজে প্রতিদিন দশ শ্রমিক কাজ করেন বলে জানান এই কৃষক আব্দুল গনি এখন পলিথিন ব্যবহারের উৎপাদিত কুলের সাইজ দেখে নিজেই আশ্চর্য হচ্ছেন।
আব্দুল গনি আরো বলেন, সাধারণভাবে উৎপাদিত বাউকুল থেকে বছরের দশ বিঘা জমিতে ৭-৮ লাখ টাকার ফল বিক্রি করা যায়। যা চারা রোপণ থেকে শুরু করে ফল সংগ্রহ পর্যন্ত খরচ হয় এক লাখ টাকার মতো। কিন্তু একই খরচে এই পলিথিন পদ্ধতি ব্যবহার করার ফলে দশ বিঘা জমিতে দশ লাখের বেশি টাকার কুল বিক্রি করা যায়।
কলারোয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মহসিন আলী জানান, এই উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৩১৬ হেক্টর জমিতে কুল আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বাউকুল, আপেলকুল, নারকেলকুল, ঢাকা নাইন্টি- এ ধরনের কুলের আবাদ বেশি। এর মধ্যে বাউকুল পলিথিনের মাধ্যমে ব্যাগিং পদ্ধতিতে চাষের জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে কৃষকরা বিষমুক্ত কুলচাষ করছেন- যা বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে।