ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ

আপডেট: 02:59:06 22/02/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী গ্রামের একটি ক্ষেত থেকে ধানের চারা উপড়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যাংক কর্মকর্তা তাপসকুমার বিশ্বাস শুক্রবার সকালে সুন্দলী গ্রামের দক্ষিণ বিলের ওই ক্ষেত থেকে ওই ধানের চারা তুলে ফেলেন বলে তার সৎভাই দীপজ্যোতি বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন।
অবশ্য, তাপস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমার জমির অংশের আগাছা সাফ করেছিমাত্র।'
অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী গ্রামের দীপজ্যোতি বিশ্বাস এ সংক্রান্তে অভয়নগর থানায় আজ সকালে একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
সুন্দলী গ্রামের নারায়ণচন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে দীপজ্যোতি বিশ্বাস জানান, গ্রামের দক্ষিণ বিলে ২৫ শতক জমিতে শ্রমিকদের দিয়ে তিন দিন ধরে বোরো ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে তার সৎভাই তাপসকুমার বিশ্বাস, তার ছেলে পিয়াসকান্তি বিশ্বাস (১৭), চাচাতো ভাই সংগ্রাম বিশ্বাস (৪২), অপর চাচাতো ভাই বিভাসচন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে চিন্ময় বিশ্বাসকে (২৬) সঙ্গে নিয়ে ধানের চারা পা দিয়ে মাড়িয়ে কাঁদার নিচে পুঁতে দেন। অবশিষ্ট চারা তারা ক্ষেত থেকে তুলে ফেলে দেন।
দীপজ্যোতির মা লতিকা মণ্ডল অভিযোগ করেন, স্বামী নারায়ণচন্দ্র বিশ্বাস তাকে ও তার ছেলে দীপজ্যোতি বিশ্বাসকে ২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর সুন্দলী মৌজায় বিভিন্ন দাগে তিন একর ৬৮ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। এসব জমি তারা ভোগদখল করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তার তিন সৎ ছেলে-মেয়ে প্রদীপকুমার বিশ্বাস, তাপসকুমার বিশ্বাস এবং চম্পাকলি বিশ্বাস আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা করেন। মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
গত মঙ্গলবার সকালে সুন্দলী দক্ষিণ বিলের ২৫ শতকের একটি জমিতে তিনি শ্রমিক নিয়ে বোরো ধান রোপণ করতে যান। এ সময় তার সৎ ছেলে তাপসকুমার বিশ্বাস (৫৪), ভাসুরের ছেলে বিভাষচন্দ্র বিশ্বাস (৪৮), প্রতিবেশী সুজন মল্লিক ভোলা (৩৫) এবং বসন্ত বিশ্বাস (৫৫) তাকে মারধর করে। এলাকার কয়েকজন তাকে উদ্ধার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে দেন।
এদিকে, অভিযোগ প্রসঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তা তাপসকুমার বিশ্বাস সুবর্ণভূমিকে বলেন, 'ওই জমির দুই-তৃতীয়াংশ আমার। সেখানে ধান রোপণ করবো বিধায় জমি থেকে আগাছা সাফ করেছি। ধানের চারা উপড়ে ফেলিনি। তাছাড়া সৎমা যে অভিযোগ করেছেন, তা ঠিক নয়। আপনারা সরেজমিন তদন্ত করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।'
সুন্দলী ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রকাশ বিশ্বাস বলেন, ‌'বৃহস্পতিবার বিকেলে আমি ওই জমিতে ধানের চারা দেখেছি। সকালে দীপজ্যোতি আমাকে জানায়, তার ধানের চারা উপড়ে ফেলে তাপস তাকে মারতেও এসেছে। পরে গিয়ে দেখি, সেখানে অর্ধেকের বেশি জমি ধানের চারাশূন্য।'
জানতে চাইলে অভয়নগর থানার এএসআই মো. সদরুল আলম বলেন, ইতোপূর্বেও দীপজ্যোতি থানায় জমি সংক্রান্তে অভিযোগ দেন। আজ সকালে আবার অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দীপজ্যোতি তার জমির কাগজ দেখালেও ব্যাংক অফিসার তা মানতে চাননি। তাদের থানায় আসতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন