বৈধব্যের ৪১ বছর পর মিললো কার্ড

আপডেট: 07:57:45 05/11/2020



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : শামসুন্নাহার বিধবা হয়েছেন ৪১ বছর আগে। স্বামী মোস্তাজুল হক পাটোয়ারী অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার পর মণিরামপুর উপজেলার মাহমুদকাটি গ্রামে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন শামসুন্নাহার।
পরে পাশের রঘুনাথপুর মৌজায় পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া একখণ্ড জমিতে স্থায়ী ঠিকানা হয় এই নারীর।
শামসুন্নাহারের দুই ছেলে তরিহ হোসেন ও সালে আহম্মদ দিনমজুর। ছেলেদের আশ্রয়ে রয়েছেন তিনি। এখন বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন।
৪১ বছর ধরে স্বামীহারা হলেও এই নারীর ভাগ্যে জোটেনি বিধবাভাতা। ইতিমধ্যে তার বয়স হয়েছে ৬৩। এখন তিনি বয়স্কভাতা পাওয়ারও যোগ্য হয়েছেন। গত ১৫ বছর ধরে ইউপি মেম্বারসহ সমাজপতিদের দুয়ারে ঘুরে ভাতার কার্ড যোগাড় করতে পারেননি তিনি। অবশেষে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামানের সহায়তায় বয়স্কভাতার জন্যে তালিকাভুক্ত হয়েছেন তিনি। হাতে পেয়েছেন ভাতার বই।
সরেজমিন শামসুন্নাহারের খবর নিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে নিউজ না করতে অনুরোধ করে কার্ডের দায়িত্ব নেন রোকনুজ্জামান । পরে কয়েকমাসের মধ্যে তিনি শামসুন্নাহারের বই প্রস্তুত করেন। বই হাতে পাওয়ার আগেই বিধবার অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা জমা পড়েছে।
এদিকে, ভাতার কার্ড পেয়ে খুশি শামসুন্নাহার। তিনি বলেন, 'স্বামীকে হারিয়ে দুই ছেলেরে নিয়ে অনেক কষ্ট করিছি। মেম্বর মুনসুর আলীসহ কতজনের দরজায় গেছি। কতবার যে আইডি কার্ড দিছি। কেউ একখান কার্ড দিইনি। এখন যারা আমারে কার্ড করে দেছে কাদের জন্যি মন খুলে দোয়া করতিছি।'
শামসুন্নাহারের ছোট ছেলে সালে আহম্মদ বলেন, 'মায়ের কার্ডের জন্য যতজনকে বলিছি, সবাই টাকা চেয়েছে। কয়মাস আগেও একজন কার্ড করে দেবে বলে একহাজার টাকা চাইছে। আমি দিইনি। এখন সমাজসেবা অফিসার কার্ড করে দিয়েছে। বিনা টাকায় ভাতার কার্ড পেয়ে আমরা খুব খুশি।'
মণিরামপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, 'আরো আগে ভাতা পাওয়ার কথা ছিল শামসুন্নাহারের। গণমাধ্যম কর্মীর মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিই। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে অফিসে ডেকে শামসুন্নাহারের হাতে বয়স্কভাতার বই দিয়েছি। ইতিমধ্যে তার অ্যাকাউন্টে সাড়ে চার হাজার টাকা জমা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে খেদাপাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে তিনি টাকা তুলতে পারবেন।'

আরও পড়ুন