বেনাপোল বন্দরে যৌথ এন্ট্রি শাখার উদ্বোধন

আপডেট: 07:24:03 24/11/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর) : দেশের বৃহত্তম বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সহজীকরণে কাস্টমস, বিজিবি ও বন্দরের যৌথ এন্ট্রি শাখার উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে এ এন্ট্রি শাখা উদ্বোধন করেন বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান।
তিনি সংবাদকর্মীদের জানান, আগে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সময় একই তথ্য পণ্য প্রবেশদ্বারে বাংলাদেশ কাস্টমস, বিজিবি ও বন্দরের কাছে তিনবার এন্ট্রি করতে হতো। এতে দ্রুত বাণিজ্য সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত ও রাজস্ব আদায়েও সমস্যা হতো। বিষয়টি নিয়ে তিন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে বাণিজ্য সহজীকরণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন বাণিজ্যে যেমন গতি বাড়বে, তেমনি রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার জানান, আগে তিন জায়গায় তথ্য এন্ট্রির কারণে সময়ক্ষেপণ, বাণিজ্যে ধীরগতি ছিল। প্রতিদিন যেখানে ৫০০ ট্রাক আমদানি হওয়ার কথা, সেখানে ৩০০ প্রবেশ করতো।
বেনাপোল চেকপোস্ট আইসিপি বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার আশরাফ জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে যৌথভাবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে আমদানি-রফতানিতে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাযসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে কাস্টমসের কাছে আমরা যৌথভাবে তথ্য এন্ট্রির আবেদন জানিয়ে আসছিলাম। দেরিতে হলেও এ ধরনের উদ্যোগ বাণিজ্য ত্বরান্বিত হতে ভূমিকা রাখবে।'
ইন্দো-বাংলা চেম্বার অব কর্মাসের পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, বাংলাদেশ অংশে  তিনটি সংস্থার সমন্বয়হীনতার কারণে ভেগান্তি হচ্ছিল ব্যবসায়ীদের। এখন এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন ব্যবসায়ীরা।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার ড. মো. নেয়ামুল ইসলাম, উপ-কমিশনার শামীমুর রহমান, উপ কমিশনার অনুপম চাকমা, বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আব্দুল জলিল, সহকারী পরিচালনা (ট্রাফিক) আতিকুর রহমান, বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমানসহ কাস্টমস বন্দর ও ব্যবসায়ী সংগঠনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
দেশের স্থলপথে যে পণ্য আমদানি হয় তার ৭০ শতাংশ হয়ে থাকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। প্রতিবছর এই বন্দর দিয়ে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি ও আট হাজার কোটি টাকার পণ্য ভারতে রফতানি হয়ে থাকে। আমদানি পণ্য থেকে সরকারের প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসে।

আরও পড়ুন