বেনাপোল-পেট্রাপোলে দ্বিতীয় দিনের মতো বাণিজ্য স্থবির

আপডেট: 07:48:49 02/07/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর) : দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবারও কোনো পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়নি বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে।
বেনাপোল বন্দরে তিন মাসের অধিক সময় ধরে আটকে থাকা বাংলাদেশি পণ্য রফতানির দাবিতে এ এলাকার রফতানিকারক সমিতি বুধবার (১ জুলাই) সকাল থেকে এ পথে আমদানি বন্ধ করে দেয়। তবে বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় পণ্যবোঝাই হাজারের বেশি ট্রাক আটকা পড়েছে দুই দেশের বন্দরে। ভারতের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের নেতারাও কবুল করছেন, পণ্য আমদানি হলে রফতানিতে বাধা থাকার কথা না। যে প্রক্রিয়ায় আমদানি হচ্ছে একই প্রক্রিয়ায় রফতানিও চলুক।
করোনা সংক্রমণের শঙ্কায় ‘নিরাপত্তাজনিত’ কারণ দেখিয়ে গত ২২ মার্চ থেকে ভারতীয়রা বাংলাদেশ থেকে কোনো রফতানি চালান গ্রহণ করেনি। যদিও ৭ জুন থেকে ভারত পেট্রাপোল বন্দরের মাধ্যমে তাদের পণ্য রফতানি শুরু করে। ফলে বাংলাদেশে আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও রফতানি বন্ধ থাকে। এতে বাণিজ্য ঘাটতি প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রফতানিকারকরা।
দেশে স্থলপথে যে রফতানি হয় তার ৭০ শতাংশ আসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। প্রতি বছর এ বন্দর দিয়ে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা দামের নয় হাজার টন বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানি হয়।
বেনাপোলের ব্যবসায়ীদের সঙ্গত প্রশ্ন, ভারতীয় লরিচালকেরা পণ্য নিয়ে বেনাপোলে ঢুকতে পারলে বাংলাদেশি চালকেরা কেন পেট্রাপোলে বন্দরে প্রবেশ করতে পারবেন না? তাদের দাবি, বেনাপোল বন্দর এলাকা এখনো বাংলাদেশের গ্রিন জোনভুক্ত। ফলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম। ট্রাকচালকেরা সুরক্ষা পোশাক পরেই ভারতে যাবেন- এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সাড়া দেয়নি। এই অবস্থায় বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের সিদ্ধান্ত, বেনাপোল থেকে পেট্রাপোলে ট্রাক প্রবেশের সবুজ সঙ্কেত না মেলা পর্যন্ত ভারতের ট্রাককেও বেনাপোল বন্দরে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক আনু বলছেন, করোনা সংক্রমণের শঙ্কায় ‘নিরাপত্তাজনিত’ কারণ দেখিয়ে ভারতীয়রা বাংলাদেশ থেকে কোনো পণ্য গ্রহণ করছে না। ফলে আমদানি কার্যক্রম একপর্যায়ে স্বাভাবিক হয়ে এলেও রফতানি হয়নি কিছুই। এমনিতেই দুই দেশের বাণিজ্য বিশাল ব্যবধানে ভারতের অনুকূলে। এখন একতরফাভাবে রফতানি আটকে রাখায় এই ঘাটতি আরো বাড়বে।
‘এমন পরিস্থিতিতে আমরা বহু দেন-দরবার করেও বাংলাদেশের পণ্য ভারতে রফতানি করতে ব্যর্থ হয়েছি। তাই বাধ্য হয়ে বুধবার সকাল থেকে আমদানি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে,’ বলেন ব্যবসায়ী নেতা আমিনুল হক।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেট্রাপোল বন্দরের ব্যবসায়ীরাও চাইছেন বেনাপোল থেকে পণ্য আমদানি শুরু হোক। পেট্রাপোল এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পরিতোষ বিশ্বাস জানান, বেনাপোল থেকে পণ্য রফতানির কাজ এই মুহূর্তেই শুরু হোক। বাণিজ্য চালু না থাকায় বহু ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকারও। দুই দেশের হাজারো মজদুরও আর্থিক সংকটে ধুকছেন, তাদের বিষয়টিও ভারত সরকারকে দেখতে হবে।
ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা আঞ্চলিক পরিবহন দফতরের রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি সাবেক বিধায়ক গোপাল শেঠ জানিয়েছেন, বেনাপোল বন্দর থেকে পণ্য আমদানি শুরু করার জন্য রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবকে তিনি চিঠি দিয়েছেন।
পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়শনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ‘বেনাপোলের বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের দাবি আমরা কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারি না। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেই আমাদের অ্যাসোসিয়শনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য ফের সচল করার।’
পেট্রাপোল ল্যান্ড পোর্ট অথরিটির ম্যানেজার শুভজিৎ মণ্ডল বলেন, বেনাপোল থেকে পেট্রাপোল বন্দরে পণ্য আমদানির কাজ শুরু করার জন্য রাজ্য সরকারের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আসেনি। কোনো স্থলবন্দর দিয়েই পণ্য আমদানির জন্য রাজ্য সরকার অনুমতি দেয়নি এখনো। নির্দেশনা এলে বেনাপোল বন্দর থেকে রফতানি পণ্যবাহী ট্রাক গ্রহণ করতে কোনো বাধা থাকবে না।
বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার জানান, আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও বন্দর খোলা আছে। বাণিজ্য সচলের জন্য তারা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন