বৃষ্টিতে বিপাকে চৌগাছার ধানচাষিরা

আপডেট: 06:58:13 19/05/2020



img

‌রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (য‌শোর) : চৌগাছায় কৃষ‌কের মা‌ঠে ধান, বা‌ড়ির উঠা‌নে ধান, চা‌রি‌দি‌কে ছ‌ড়ি‌য়ে ছি‌টি‌য়ে আছে বি‌চালি (গোখাদ্য)। এরম‌ধ্যে ঘূর্ণিঝড়জনিত কারণে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বিপাকে প‌ড়ে‌ছেন চাষিরা। বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে অবশ্য রাত-দিন প‌রিশ্রম করে ফসল খানিকটা রক্ষা করতে পেরেছেন তারা।
উপ‌জেলা কৃ‌ষি অ‌ফিসের তথ্য সরবরাহকারী কর্মকর্তা ত‌রিকুল ইসলা‌ম বলছেন, চল‌তি মওসু‌মে উপ‌জেলায় ১৭ হাজার ৮২০ হেক্টর জ‌মি‌তে বো‌রো ধা‌নের চাষ করা হ‌য়ে‌ছে। এ ধান উৎপাদ‌নের সঙ্গে উপ‌জেলার প্রায় ৩০ হাজার কৃষক প‌রিবার জ‌ড়িত।
আবাদ হওয়া জ‌মি থে‌কে প্রায় এক লাখ সাত হাজার মে‌ট্রিক টন ধান উৎপা‌দিত হ‌বে ব‌লে আশা কর‌ছে কৃ‌ষি বিভাগ। এই বিপুল প‌রিমাণ ধা‌ন কে‌টে, মাড়াই ক‌রে ও প‌রিষ্কার কর‌তে ব্যস্ত সময় পার কর‌ছে কৃষক প‌রিবারগু‌লো। রমজা‌নের সেহরি খাওয়ার পর থে‌কে নি‌য়ে গভীর রাত পর্যন্ত চল‌ছে ধান কাটা, ঝাড়া আর প‌রিষ্কার করার কাজ।
অপর‌দি‌কে দে‌শের অন্য এলাকা থে‌কে যে বিপুল সংখ্যক কৃ‌ষিশ্র‌মিক এ সময় কা‌জের জন্য আসেন, তারা ক‌রোনার লকডাউনের কার‌ণে এবার আস‌তে পারেননি। ফলে কৃষ‌কের ওপর চাপ আরো বেড়েছে। যেখা‌নে ধান ঘ‌রে তুল‌তে অন্য বছর লা‌গে দশ দিনের মতো, সেখা‌নে এবছর ২০ দি‌নেও সে কাজ তোলা যাচ্ছে না।
ধান কাটা ঝাড়ার ব্যাপা‌রে জান‌তে চাইলে  হুদাফ‌তেপুর গ্রা‌মের মাওলানা আলী আকবর ব‌লেন, 'এ বছর এই সময় বৃ‌ষ্টি হওয়ায় ধান কাটা-ঝাড়ায় চরম সমস্যা হ‌চ্ছে। তার ওপর ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে চলেছে। এতে আমা‌দের ব্যাপক ক্ষ‌তি হ‌য়ে যা‌বে।'
সিংহঝু‌লি গ্রা‌মের সা‌বের আলী সরদার, সাইফুল ইসলাম, জে‌হের আলী সরদার, সামছুল হদা দফাদার, ট‌নিরাজ, সাগর খান প্রমুখ কৃষ‌কেরা জানান, কৃ‌ষিশ্র‌মি‌কের চরম সংক‌টের মধ্য দি‌য়ে এবার তাদের ধান কাটা-ঝাড়ার কাজ কর‌তে হ‌চ্ছে। এরপর আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় তাদের ব্যাপক ক্ষ‌তি হ‌বে।
তারা আ‌রো ব‌লেন, ধান কিছুটা সংরক্ষণ করা গে‌লেও বি‌চালি (গোখাদ্য) এখন পর্যন্ত মো‌টেই সংরক্ষণ করা যায়‌নি।
মাঝালি গ্রা‌মের চাষি স‌হিদুল ইসলাম ব‌লেন, এখনই প্‌‌তি কাউন বি‌চালির দাম চার হাজার টাকা। আর যদি বি‌চালি নষ্ট হ‌য়ে যায়. তাহ‌লে গোখা‌দ্যের চরম সংকট দেখা দে‌বে।
কয়ারপাড়া গ্রা‌মের ধানচাষি ইউনুচ আলী ব‌লেন, চল‌তি মওসু‌মে বো‌রো ধান কাট‌তে ও মাড়াই কর‌তে অন্যবা‌রের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ খরচ হ‌য়ে যা‌চ্ছে।
কারন জান‌তে চাইলে  তি‌নি ব‌লেন, অন্য এলাকা থে‌কে কৃষি শ্র‌মিক না আসা এবং জ‌মি‌তে পা‌নি থাকার কারণে গরুর গাড়ি জ‌মি‌তে না নিতে পারায় বে‌শি খরচ হ‌য়ে‌ছে।
ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ব্যাপা‌রে উপ‌জেলা কৃ‌ষি কর্মকর্তা রইচ উ‌দ্দিন ব‌লেন, 'আমরা প্র‌তি‌নিয়ত আবহাওয়ার খবর কৃষক‌দের জানা‌চ্ছি; যা‌তে তারা সতর্ক হ‌তে পা‌রে। কৃষক‌দের‌কে আমরা আ‌রো ব‌লে‌ছি, প্রথমে ধান সংরক্ষণ কর‌তে, এরপর গোখা‌দ্যের দি‌কে নজর দি‌তে।'
তি‌নি আ‌রো ব‌লে‌ন, উপ‌জেলায় চার‌টি বড় হা‌রভেস্টার মে‌শিন দি‌য়েও ধান কাটা ও মাড়াই এর কাজ চল‌ছে।

আরও পড়ুন