বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত বহু লোক খোলা আকাশের নিচে

আপডেট: 04:05:43 17/11/2019



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতের ক্ষতচিহ্ন বুকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে এখনো বসবাস করছে কয়েকশ’ পরিবার। নদীর ধারে কিম্বা উঁচু স্থানই এখন তাদের ঠিকানা। কাঁচা মাটির দেয়াল এখন দুর্গতদের কাছে শুধুই স্মৃতি।
১০ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে তছনছ হয়ে গেছে উপকূলের গরিব-অসহায় মানুষের ঘরবাড়ি। ঝড়ের আগে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছিলেন তারা। ঝড় শেষে বাড়ি ফিরে দেখেন বুলবুলের আঘাতে উড়ে গেছে চাল। ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে তাদের বাড়িঘর। নষ্ট হয়েছে ফসলের ক্ষেত। ভেসে গেছে পুকুর ও মাছের ঘের। যেদিকে তাকানো যায় সেদিকেই যেন ধ্বংসস্তূপ।
সেই দিনের পর থেকে অনেকেই অবস্থান করছেন বেড়িবাঁধের ওপর। পলিথিনের টং বানিয়ে খোলা আকাশের নিচে স্বজনদের নিয়ে বসবাস করতে দেখা গেছে অনেক অসহায় পরিবারকে। সুপেয় পানির কষ্ট, স্যানিটেশন সমস্যা, থাকার কষ্ট, খাওয়ার কষ্ট নিয়েই তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। দিনে সূর্যের তাপ আর রাতে শীতের কামড় এসব অসহায় মানুষকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে বলে জানান তারা।
সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে চলছে জরিপ। প্রাথমিকভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে শুরু হয়েছে পুনর্বাসনের কাজ। ক্ষয়-ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন ঘূর্ণিদুর্গত মানুষ।
এদিকে, শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে ‘ব্রতী’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গাবুরার বেশিরভাগ মানুষ দুস্থ ও গরিব। তাদের অধিকাংশ পরিবারের বাসগৃহ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ভেঙে গেছে। সংসারে ব্যবহার উপযোগী উপকরণের ক্ষতি হয়েছে। আসবাবপত্র ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বুড়িগোয়ালিনী শিশু সুরক্ষা প্রকল্প অফিসের কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, ব্রতীর তত্ত্বাবধানে বেড়ে উঠছে বাবা-মাহারা ২০০ শিশু। প্রতিবন্ধী পরিবারের ২২টি শিশুর বাসগৃহ সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। আংশিক ভেঙে উপকরণের ক্ষয়ক্ষতি হয় ২৮টি পরিবারের। তাদের অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন। অনেকে ভাঙা বেড়া কাত করে দিয়ে তার ভেতরে ঝুপড়ি তুলে রান্নাবান্না করছেন। আবার অনেকেই অন্যের বারান্দায় রাত কাটাচ্ছেন। ঝড়ের রাতে এরা বাসায় ছিলেন না।
গাবুরার ১৫টি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, গ্রামবাসীর মধ্যে দরিদ্র শ্রেণির মানুষের বসতঘর ভেঙে গেছে। গাবুরার ডুমুরিয়া বাজারের একটি ঘরও দাঁড়িয়ে নেই। ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে সব ঘরের চাল। সুপেয় পানির পুকুরগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। খলসেবুনিয়া এলাকায় ভেঙেছে ঘরের পর ঘর। এভাবে গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, রমজাননগর, কৈখালি, ঈশ্বরীপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামের পর গ্রাম কাঁচা-আধাপাকা বাড়িঘর, ফসল ও মাছের ঘেরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ ও সোলার প্যানেলের ক্ষতি হয়েছে। বহু গাছ উপড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে গোটা উপকূল।

আরও পড়ুন