বিপুল লোকসান নিয়ে মোচিকে আখ মাড়াই উদ্বোধন

আপডেট: 06:53:17 06/12/2019



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : প্রায় ৩০০ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা নিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠান ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকল ২০১৯-২০২০ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল চারটায় মিলের ৫৩তম আখ মাড়াই মৌসুম উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ালী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই।
উদ্বোধনের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য খালেদা খানম, কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ঠান্ডু, কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম, মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার কবীর, মোচিক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম রসুল, আখচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাসুদুর রহমান মন্টুসহ শ্রমিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় আখচাষিরা।
চলতি মাড়াই মৌসুসে চিনিকলটি প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে সাত হাজার ৬৮৮ টন চিনি আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আর চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছে ৬.২৫%। কার্যদিবস ধরা হয়েছে ৯০ দিন। এ মৌসুমে আখ রয়েছে প্রায় ছয় হাজার ২০০ একর জমিতে। আখচাষি রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার।
২০১৮-১৯ আখ মাড়াই মৌসুমে প্রায় ৭৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে মোচিক। ওই বছর মিলটি চিনি উৎপাদন হয়েছিল পাঁচ হাজার ৭৮৫ টন। বর্তমানে মিলটির গুদামে চিনি রয়েছে ২০৬ টন। এছাড়াও এই মৌসুমে চিনি আহরণের লক্ষ্য ছিল ৭.৫০%। কিন্তু অর্জিত হয়েছে ৫.৬৮%। চিনিকলের শ্রমিকদের প্রায় দুই মাসের বেতন বাবদ দুই কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।
এছাড়া ২০১৭-২০১৮ মাড়াই মৌসুমে ৩২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, ২০১৬-২০১৭ লোকসান হয় ২৬ কোটি নয় লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ৩৫ মাড়াই মৌসুমে লোকসান হয়েছে ৩০১ কোটি টাকা। বাকি ১৬ মৌসুমে লাভ হয়েছে ৩৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার কবীর জানান, মিল গোডাউনে প্রায় এক কোটি ১৩ লাখ টাকার বেশি চিনি আছে। শ্রমিকদের বেতন বকেয়া আছে দুই মাসের। চলতি ২০১৯-২০ আখ মাড়াই মৌসুমে লোকসানের পরিমাণ কমিয়ে আনতে কাজ করছেন। এছাড়াও চাষিদের ঠিকমতো আখের টাকা পরিশোধ করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহরে ১৯৬৫ সালে তিন কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ২০৭.৯৩ একর নিজস্ব সম্পত্তির ওপর নেদারল্যান্ড পদ্ধতিতে সরকার মোবারকগঞ্জ চিনিকলটি স্থাপন করে। এর মধ্যে ২০ দশমিক ৬২ একর জমিতে কারখানা, ৩৮ দশমিক ২২ একর জমিতে স্টাফদের কলোনি, ২৩ দশমিক ৯৮ একর জমিতে পুকুর, প্রায় ১০৭ একর জমিতে পরীক্ষামূলক ইক্ষু খামার, ১৮ দশমিক ১২ একর জমিতে সাবজোন অফিস ও ইক্ষু ক্রয় কেন্দ্র নিয়ে স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে ৬০ কর্মদিবস আখ মাড়াই চলে। লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় ১৯৬৭-৬৮ মাড়াই মৌসুম থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চিনিকলটি উৎপাদন শুরু করে। ঝিনাইদহের ছয় উপজেলা ছাড়াও যশোরের দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত হয় মোচিক জোন। মিলের আটটি জোনের আওতায় চাষযোগ্য জমির পরিমাণ রয়েছে সাড়ে তিন লাখ একর। আখ ক্রয় কেন্দ্র রয়েছে ৪৮টি।

আরও পড়ুন