বাঘারপাড়ার দুই গ্রাম স্থানীয়ভাবে ‘লকডাউন’

আপডেট: 08:19:13 06/04/2020



img

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি : সোমবার বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নের বোয়ালিয়া ও নওয়াপাড়া গ্রামকে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করেছেন স্থানীয় যুবকরা। গ্রামের মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে রাখতে নিজেরাই লকডাউনের ঘোষণা করেন তারা।
গ্রাম দুটির ছয়টি প্রবেশ পথে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামজুড়ে ছেটানো হয়েছে জীবাণুনাশক। প্রবেশ পথে রাখা হয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। বাইরের এলাকার কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না গ্রামে। আবার যৌক্তিক কারণ ছাড়া কাউকে গ্রাম থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।
তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আফরোজ এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। যৌক্তিক কারণ ছাড়া ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা যায় না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা অমরেশ বিশ্বাস নামে এক যুবক বলেন, ‘বাইরে থেকে অনেক লোকজন আমাদের গ্রামে এসে ঘোরাঘুরি করে। আজ সকালে (সোমবার) এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়। তিনি বাইরের লোকের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বলেন। আমরা বোয়ালিয়া গ্রামের দুটি প্রবেশপথে বাঁশ দিয়ে ঘিরে দিয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাইরের কাউকে গ্রামে ঢুকতে দেবো না।’
একই কথা বলেন তার সঙ্গে থাকা পলাশ, সমীর, শ্যামল, জসীম, সৈকত ও সৌরভ।
এদিকে বোয়ালিয়া গ্রামের মতো এ ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামকেও লকডাউন করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় ইউপি সদস্য রওশন ইজদানী জানান, নওয়াপাড়া গ্রামের চার প্রবেশ পথ দোয়াল এলাকা, বটতলা এলাকা, বাহারুল ডাক্তারের দোকান এলাকা এবং কালুডাঙ্গা এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করেছেন স্থানীয় যুবকেরা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দোহাকুলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু মোতালেব তরফদার বলেন, ‘প্রতিদিন বাইরের লোকজন এই দুই গ্রামে এসে ভিড় করছে, আড্ডাবাজি করছে। এটা আমাকে জানায় কযেক যুবক। আমি তাদেরকে বলেছি বাইরের লোকজন প্রবেশে বাধা দিতে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানিয়া আফরোজ বলেন, ‘এই ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। যৌক্তিক কারণ ছাড়া লকডাউন ঘোষণা করা যায় না। কে বা কারা এটা করলো আমি খোঁজ নিচ্ছি।’

আরও পড়ুন