বাকড়িতে অমল সেন স্মরণসভা শুরু

আপডেট: 07:16:11 17/01/2021



img
img

নড়াইল বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি : পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে যশোরের বাঘারপাড়ায় শুরু হলো ১৮তম অমল সেন স্মরণ সভা।
রোববার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১২টা এক মিনিটে বাকড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তে-ভাগা আন্দোলনের অগ্রপথিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড অমল সেনের স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটির নেতারা।
যশোরের বাঘারপাড়া ও নড়াইলের সীমান্তবর্তী এলাকা এগারোখানের বাকড়ীতে  দুই দিনব্যাপী স্মরণসভার প্রথম দিন ছিল রোববার। এদিন শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন স্মৃতি রক্ষা কমিটির সভাপতি ও ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, স্মৃতি রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস, সহসাধারণ সম্পাদক বিপুল বিশ্বাস, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বিথীকা বিশ্বাস, কোষাধ্যক্ষ অশ্বিনীকুমার দাস, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য নারায়ণচন্দ্র পাঠক, সাধারণ সদস্য কঙ্কন পাঠক, নির্মল বিশ্বাস, শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, কৃষ্ণপদ বিশ্বাস, ভারতী রায় প্রমুখ।
এ দিন বিকেল তিনটায় বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির আয়েজনে সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাকড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থাপিত ‘সরলা সিংহী স্থায়ী মঞ্চে’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরো সদস্য মাহমুদুল হাসান মানিক। অশ্বিনীকুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা নড়াইল-২ আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নড়াইল জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবু বক্কার সিদ্দিক, ওয়ার্কার্স পার্টির যশোর জেলা সাধারণ সম্পাদক সবদুল হোসেন খান, মলয়কুমার নন্দী ও স্থানীয় নেতারা।
অমল সেন ১৯১৪ সালের ১৯ জুলাই আউড়িয়ার প্রখ্যাত রায় পরিবারে মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন নড়াইলের আফরার জমিদার পরিবারেরর সন্তান। নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবী ‘অনুশীলন’ গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত হন। দৌলতপুর বিএল কলেজে গণিতশাস্ত্রে সম্মান শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় মার্কসবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন এবং পড়ালেখা অসমাপ্ত রেখে বাড়িতে ফিরে এসে কমিউনিস্ট আন্দোলন করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন মানবজীবনের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি হতে পারে মানবসমাজের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা তথা শ্রমজীবী মানুষের শোষণ মুক্তির লড়াইতে অংশগ্রহণ করা। তাই তিনি উত্তরাধিকার পরিত্যাগ করে বাড়ি ছেড়ে এক কৃষক পরিবারে এসে আশ্রয় নেন আর আমৃত্যু নিজেকে কৃষক, শ্রমিক মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিয়োজিত রাখেন।

আরও পড়ুন