বলরামপুর হবে ‘মাল্টার গ্রাম’

আপডেট: 07:38:55 05/07/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : পাহাড়ি এলাকার ফল হিসেবে পরিচিত মাল্টা। তবে সমতলেও এই সুস্বাদু ও ভিটামিনসমৃদ্ধ ফলটির চাষ করা সম্ভব। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে যশোরের বাঘারপাড়ার একটি গ্রামকে ‘মাল্টার গ্রাম’ হিসেবে তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছে ‘জ্ঞানের মেলা মানব কল্যাণ সংস্থা’ নামে যশোরভিত্তিক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
গ্রামটির সব বাড়ির আঙিনায় দুই-তিনটি করে মাল্টার চারা লাগানো হয়েছে। এগুলো ফলবতী হলে গ্রামবাসী এগুলো খেয়ে ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করতে পারবেন। বিক্রি করে উপার্জন করতে পারবেন অর্থও।
করোনা মহামারীকালে ভিটামিন সি-এর কদর বেড়েছে অনেক। বিষয়টি মাথায় নিয়ে বাঘারপাড়ার প্রত্যন্ত বলরামপুর গ্রামে গেল শনিবার ছয় হাজার মাল্টার চারা বিতরণ করেছে সংস্থাটি।
মাল্টা উচ্চফলনশীল। সুস্বাদু এই ফলটি ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ। শহর এলাকায় আগে থেকেই মাল্টার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও গ্রামের মানুষ ফলটি সম্বন্ধে তেমন অবহিত না। হয়তোবা সেই কারণে বলরামপুরের মতো গ্রামে নানা ধরনের ফলের গাছের সমাহার থাকলেও মাল্টাগাছ নেই। এখন গ্রামটির ১২০টি বসতবাড়ির সবক’টিতে দুই থেকে তিনটি করে চারা লাগানো হয়েছে। সমান আকৃতি ও বয়সের গাছ হওয়ায় সেগুলোতে একযোগে ফল আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জ্ঞানের মেলা কর্তৃপক্ষ বলছেন, বর্তমানে সময়ে শিশু-কিশোররা তাদের আশেপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গাছ সম্পর্কে তেমন কিছু জানে না। ফলে এগুলোর উপকারিতা সম্বন্ধেও তাদের সম্যক ধারণা নেই। তাই গ্রামের প্রতিটি শিশুকে গাছ সম্পর্কে আগ্রহী করতে তুলতে হবে, পরিচর্যার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
জ্ঞানের মেলা কর্তৃপক্ষ শর্ত দিয়েছেন, শুধু বাড়ির আঙিনাতেই ফলগাছটি লাগানো যাবে। এতে করে গাছ সংরক্ষণের সুবিধা হবে। এ গ্রামের প্রতিটা বাড়ি পরিণত হবে একেকটি ‘মাল্টা বাড়িতে’।
গ্রামের স্বপন বিশ্বাস ও পলাশ বিশ্বাস বলেন, ‘জীবনে প্রথম দেখলাম এ ধরনের উদ্যোগ। গাছ বিতরণ করতে দেখেছি কিন্তু এক সাথে প্রতিটি বাড়িতে একই জাতের চারা রোপণ নান্দনিক উদ্যোগ।’
শনিবার বিকেলে মাল্টার চারা বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন জ্ঞানের মেলা মানবকল্যাণ সংস্থার সভাপতি কৃষিবিদ ইবাদ আলী, সহ-সভাপতি মিলন হোসেন, সভাপতি কৃষিবিদ সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।