বন্ধকালেও ডাকা হয়েছিল স্কুলে, পথে প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর

আপডেট: 09:51:23 30/09/2020



img

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর) : চৌগাছায় বন্ধ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘অফিসার আসবেন’ বলে স্কুলে আসতে বলা হয় শিশু শিক্ষার্থীদের। শিক্ষকের নির্দেশে স্কুলে যাওয়ার পথে নিজের বাড়ির সামনেই একটি ইজিবাইকের ধাক্কায় প্রাণ হারালো পিতৃহারা শিশু শিক্ষার্থী তাহসিন (৬)।
তাহসিন উপজেলার আড়ারদহ-নিমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ফুলসারা ডাক্তারপাড়ার মৃত শরফুদ্দিনের ছেলে।
বুধবার সকাল নয়টার দিকে তার বাড়ির পাশে জিয়া মেম্বারের বাড়ির সামনের সড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতের চাচাতো ভাই চৌগাছা হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাহসিনের স্কুলের স্যারেরা বলেছিল স্কুলে অফিসার আসবে। সবাইকে স্কুলে যেতে হবে। স্যারদের সেই নির্দেশে সে সকালে স্কুলে যাচ্ছিল। বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান ঢালীর বাড়ির সামনে দ্রুতগামী একটি ইজিবাইক তাকে ধাক্কা দেয়। এতে শিশুটি মারাত্মক আহত হয়। উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
শিশুটির বাবা তিন বছর আগে বাঁশ কাটতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা যান বলে জানান তিনি।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই শিশুটি মারা গিয়েছিল।
পরে তার ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ লাশ থানায় নেয়। কিন্তু ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য পরিবার আবেদন করে। সেই প্রেক্ষিতে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।
চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান বলেন, শিশুটির পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাকে দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির একটি সূত্র জানিয়েছে, করোনার সময়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে বিস্কুট পৌঁছে দেওয়ার কথা। কিন্ত উপজেলাব্যাপী স্কুলগুলোতে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে যোগসাজস করে দায়িত্বপ্রাপ্ত এনজিও শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুলে নিয়ে এসে বিস্কুট দিচ্ছে। বিস্কুট প্রদানে দায়িত্বপ্রাপ্ত এনজিও কর্মীদের শিক্ষকরা ‘বিস্কুটের অফিসার’ বলে সম্বোধন করেন। শিক্ষার্থীদের হয়তো এই ‘বিস্কুটের অফিসারের’ কথা বলেই স্কুলে আসতে বলা হয়েছিল।
স্কুল বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের স্কুলে ডাকা হয়েছে কেন- জানতে চাইলে আড়ারদহ-নিমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহেলী আক্তার বলেন, ‘অফিসার আসবে বলে বাচ্চাদের স্কুলে আসতে বলা হয়নি। আজকে কোনো অফিসার আসবেন না।’
তাহলে আপনারা এখন স্কুলে অবস্থান করছেন কেন?- এমন প্রশ্নে অস্বস্তিতে পড়েন প্রধান শিক্ষক। ইতস্তত করে বলেন, ‘প্রতি বুধবার অফিসিয়াল কাজের জন্য আমরা স্কুলে অবস্থান করি।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আজকে কোনো অফিসার ওই স্কুলে যাওয়ার কথা বলে আমার জানা নেই।’
তিনি জানান, বন্ধের সময়ে শিশুদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিস্কুট দেওয়ার কথা রয়েছে সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্মীদের।

আরও পড়ুন