ফোর মার্ডারে রায়হানুলই দায়ী : সিআইডি

আপডেট: 11:39:07 21/10/2020



img

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিসা গ্রামের স্বামী-স্ত্রী ও তাদের দুই শিশু সন্তানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহত শাহিনুরের ভাই রায়হানুল ইসলাম সিআইডি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি করে সিআইডি জানিয়েছে, হত্যার কাজে ব্যবহৃত চাপাতিটি উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে সাতক্ষীরা সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সিআইডির খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক ওমর ফারুক এই তথ্য দিয়েছেন।
ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক খাইয়ে তার ভাই, ভাবি ও দুই শিশু সন্তানসহ পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে এবং জবাই করে হত্যা করে রায়হানুল। ভাই ও ভাবির মানসিক নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করা হয়। নিহতের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলাম পুলিশ রিমান্ডে এ ধরনের স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
তিনি বলেন, রায়হানুল বেকার। ভাইয়ের সংসারে সে প্রতিনিয়ত মানসিক নির্যাতনের শিকার হতো। এমনকি ভাই ও ভাবি খাওয়ার জন্য তাকে খোটাও দিতো। ঘটনার দিন রাতে ভাই তাকে গালিগালাজ করেন। যার কারণে রায়হানুল ভাই ও ভাবিকে হত্যার পরিকল্পনা করে। আর তাই কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে সবাইকে খাওয়ায়। এরপর রাতে ঠান্ডা মাথায় ধারালো চাপাতি দিয়ে আপন ভাই শাহিনুর ইসলামকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। এরপর ভাবি সাবিনা খাতুনকে হত্যা করার সময় তাদের দুই শিশু সন্তানের ঘুম ভেঙে যায়। তাদেরও হত্যা করে রায়হানুল। এসময় বেঁচে যায় তাদের চার মাস বয়সের শিশু মারিয়া।
তিনি বলেন, রায়হানুলের দেওয়া তথ্যমতে, ঘটনাস্থল হেলাতলা ইউনয়নের খলিসা গ্রামের একটি পুকুর থেকে আজ দুপুরে এ হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, রায়হানুলকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের জন্য বিকেলে সাতক্ষীরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।
প্রেস ব্রিফিং-এ আরো উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সিআইডির পুলিশ সুপার আনিচুর রহমানসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা।
এদিকে, ফোর মার্ডারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল বিকেলে আরো তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে এ মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হলো। গ্রেফতার অন্য তিনজন হলেন, উপজেলার খলিসা গ্রামের আবদুর রাজ্জাক, একই গ্রামের আবদুল মালেক ও ধানঘরা গ্রামের আসাদুল ইসলাম।
গত ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ভোররাতে কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিসা গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে মাছের হ্যাচারি মালিক শাহিনুর, তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন, ছেলে সিয়াম হোসেন মাহী ও মেয়ে তাসনিম সুলতানাকে জবাই করে হত্যা করা হয়

আরও পড়ুন