ফুলকপিতে স্বপ্নভঙ্গ সাতক্ষীরার চাষির

আপডেট: 06:46:05 07/01/2021



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : বুকভরা আশা আর চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে ফুলকপি চাষ করেছিলেন কৃষক শহর আলী। ক্ষেতের সবুজ গালিচা ভেদ করে তারার মতো ফুটেছিল ফুলকপি। তরতাজা ফুলকপি তাকে সচ্ছলতার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন বিলীন হয়ে গেছে দ্রুতই।
বাজারে ফুলকপির দাম নিয়ে চলছে রীতিমত তামাশা। কৃষক শহর আলীর বাড়ি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের পাঁচপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শহর আলী। বাবা মরহুম এবাদুল ইসলাম।
কৃষক শহর আলী জানান, অনেক আশা নিয়ে তিনি দেড় বিঘা জমিতে ফুলকপির চাষ করেছিলেন। এতে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু ফুলকপির দাম নেই বাজারে। ফুলকপি ক্ষেত থেকে তুলে বাজারে নেওয়া পর্যন্ত যে খরচ তাও উঠছে না। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা। একমণ ফুলকপি বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। বাজারে ফুলকপি নিয়ে গেলে বেপারিরা ঠাট্টা-মশকরা করে।
একই কথা বলেন, একই এলাকার সোবহান গাজীর ছেলে আনোয়ার গাজী। তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছিলেন। প্রতিবিঘা জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার টাকা। এতে তিন বিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু সাকুল্যে তিনবিঘা জমির ফুলকপি বিক্রি করেছেন মাত্র ১৩ হাজার টাকায়। গ্রামের বাজারে দাম কম। অথচ শহরের বাজারে দাম বেশি। গ্রামের বাজারে যে ফুলকপি আড়াই টাকা কেজি, শহরের বাজারে তার দাম ১৫-২০ টাকা। লাভের অংশ খেয়ে ফেলছে মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা।
কলারোয়া উপজেলার মীরডাঙ্গা গ্রামের বেগুনচাষি আরিজুল ইসলাম ছালাম, সিরাজুল, আরশাদ আলী, মোশাররফ হোসেন, রবিউল ইসলাম, শাহিনুর রহমান, রুহুল কুদ্দুস জানান, খোরদোর হাটে বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি দশ টাকা দরে। সেই বেগুন সাতক্ষীরায় বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা। কৃষকদের ক্ষেত থেকে পাইকারি বিক্রেতারা কিনছেন ৬-৮ টাকা কেজি দরে। কৃষক ও ভোক্তাদের ঠকাচ্ছে একটি চক্র। এতে করে ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।
কৃষকরা বলেন, এ বছর বর্ষার কারণে জমিতে বেগুন, ফুলকপি, ওলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজির চারা একাধিকবার রোপণ করতে হয়েছে। সবজি চাষে ব্যাপক খরচ ও খাটা-খাটনি করতে হয়।
সাতক্ষীরা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সব্যসাচী কয়াল জানান, চলতি রবি মৌসুমে সাতক্ষীরায় নয় হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এরমধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় দুই হাজার ২৫০ হেক্টর, তালায় এক হাজার ৬৯০, কলারোয়ায় এক হাজার ৭১০, আশাশুনিতে ৬১০, দেবহাটায় ৪৫০, কালিগঞ্জে দুই হাজার ২০ এবং শ্যামনগর উপজেলায় ৬৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ হয়েছে। বাম্পার ফলনের কারণে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় সবজি পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন