পুনঃনির্মাণের চার দিনেই ধসে গেল ড্রেন

আপডেট: 09:53:24 12/07/2020



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ড্রেন পুনঃনির্মাণের মাত্র চার দিনের মাথায় আবারো বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) আওতায় নির্মিত এই ড্রেন নির্মাণের সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই বৃষ্টির পানিতে ভেসে যায়।
এনিয়ে ৫ জুলাই রোববার বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল এবং পরদিন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর ড্রেনটি পুনঃনির্মাণ করে দেন কাজটির সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। কিন্তু পুনঃনির্মাণের সময় ইটের গায়ে আগে থেকেই লেগে থাকা সিমেন্ট-বালি ভালোভাবে পরিষ্কার না করায় ১০ জুলাই শুক্রবারের বৃষ্টিতে আবারো ড্রেনের গাঁথুনি ধসে ভেসে যায়।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) আওতায় উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের সর্বজনীন শ্রীশ্রীদুর্গা মন্দির থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে মাধবপুরের লক্ষণের বাড়ি থেকে মাধবপুর বাঁওড় পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। জুন মাসের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এই ড্রেন নির্মাণ করে। উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন নির্মাণ কাজটি সরেজমিনে পর্যবক্ষেণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিল প্রদান করেন। কিন্তু অতি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় নির্মাণের এক সপ্তাহের মধ্যে ৩০ জুন পার না হতেই বৃষ্টিতে ওই ড্রেনটি ধসে পড়ে ইট ও অন্যান্য সামগ্রী ভেসে যায়।
নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে এই ড্রেন নির্মাণ করায় ড্রেনের পাশের জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উপজেলা প্রকৌশলীকে বিষয়টি বার বার অবহিত করলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার পর বিভিন্ন অনলাইন নিউজপোর্টাল এবং স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর এটি ফের মেরামত করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, মাধবপুরের ড্রেনটি নির্মাণের সময় খুবই নিম্নমানের ইট, খোয়া, বালি ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাণের পরেই বৃষ্টির পানিতে সিমেন্ট-বালি ধুয়ে গিয়ে ড্রেনের গাঁথুনি ধসে যায়।
মাধবপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রীদুর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি লক্ষ্মণচন্দ্র হালদার বলেন, ‘আমরা বারবার কাজটির প্রাক্কলন দেখতে চেয়েছি। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন দেখাননি। তারা বলেছেন, অল্প টাকার কাজ। ওসব দেখা লাগবে না। এ নিয়ে দুইবার ড্রেনটি বৃষ্টির পানিতে ধসে ভেসে গেল। সামনে ভরা বর্ষা মৌসুমে কী হবে ভগবানই জানেন।’
এই বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয় বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এডিবির বরাদ্দে এই ড্রেন নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খুবই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ড্রেনটির সিমেন্ট-বালি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গিয়ে ধসে পড়ে। এরপর গণমাধ্যমে নিউজ হওয়ার পর এটি পুনঃনির্মাণ করা হয়। অথচ পুনঃনির্মাণের চার দিনের মাথায় ড্রেনটি আবারো বৃষ্টির পানিতেই ধসে ভেসে গেছে।
প্রথমবার ধসে পড়ার পর ড্রেন নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মিলন মিয়া বলেছিলেন, নির্মাণের প্রায় ২০ দিনের মধ্যেই ড্রেনটি বৃষ্টির পানিতে ধসে ভেসে গেছে। ড্রেন নির্মাণের সময় পানি পড়ার জায়গায় একটি হাউজ তৈরি করলে এমন হতো না।
এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন প্রথমবার ধসে পড়ার পর ড্রেনটি নির্মাণ কাজের কয়েক দিনের মধ্যে ভেঙে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছিলেন, ‘আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিককে বলেছি। তিনি মেরামত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’
তবে আবার ধসে ভেসে যাওয়ার পর জানতে চাইলে রোববার তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আজই খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন