পুটখালীর চেয়ারম্যান রাজ্জাকের এক খুনির যাবজ্জীবন

আপডেট: 04:53:05 21/09/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : শার্শার পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হত্যা মামলায় এক আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার যশোরের স্পেশাল জজ মোহাম্মদ সামছুল হক এ আদেশ দেন।
সাজাপ্রাপ্ত জিয়ারুল ওরফে জিয়া বেনাপোল পোর্ট থানার মহিষাডাঙ্গা গ্রামের সুলতান মোড়লের ছেলে। তিনি পলাতক রয়েছেন।
খুনে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার এজাহারভুক্ত ১৫ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় পুটখালীর বারোপোতা গ্রামের আকবর আলীর বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীরা গুলি করে, বোমা হামলা করে ও কুপিয়ে হত্যা করে চেয়ারম্যান রাজ্জাককে। শুধু তা-ই না, আসামিদের নামে যেন মামলা করতে না পারেন, সেজন্য তারা নিহত চেয়ারম্যানের স্বজনদের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টিও করেন। একপর্যায়ে ২৮ মার্চ তৎকালীন যশোরের পুলিশ সুপার জয়দেব ভদ্র বিষয়টি জানতে পেরে রাজ্জাকের ছেলে হাসানুজ্জামানকে তার বাড়ি থেকে বেনাপোল পোর্ট থানায় ডেকে নেন। পরে দশজনের নামসহ অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়। মামলার পর পুলিশ রাজ্জাকের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তাও দেয়।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গফফারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল রাজ্জাকের। এছাড়া সিরাজুল নামে আরেকজনের সঙ্গেও তার পুটখালী হাট নিয়ে বিরোধ ছিল। মেম্বার মোমিনুর রহমানের সঙ্গে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে রাজ্জাককে হত্যা করা হয়।
মামলাটি পর্যায়ক্রমে এসআই শরীফ, হাবিবুর রহমান ও আবুল খায়ের মোল্যা তদন্ত করেন। ২০১৩ সালের ২৮ আগস্ট ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরপর অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জন আদালতে জবানবন্দি দেন।
রোববার এই মামলার রায়ে জিয়ারুল ওরফে জিয়া নামে এক আসামিকে সাজা দেন আদালত। কিন্তু অভিযুক্ত অন্য ১৫ জনের বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়।
খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন, বেনাপোলের মহিষাডাঙ্গা গ্রামের হজরত মল্লিকের ছেলে অবাই, গুড়ে গম্বুজের ছেলে রফিকুল ইসলাম, পাচু মোড়লের ছেলে নুরু, কৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুল গফ্ফারের ছেলে মাহবুব, পুটখালী গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে তরিকুল ইসলাম, কৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে হারুন অর রশিদ, শিবনাথপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে মোমিনুর রহমান, মহিষাডাঙ্গার পাচু মোড়লের ছেলে আলা, মোশারফ মোড়লের ছেলে রয়েল, জহির মল্লিকের ছেলে মনিরুল, কৃষ্ণপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে মশিয়ার, বারোপোতা গ্রামের আহম্মদ আলী ওরফে কেলে আহম্মেদের দুই ছেলে আল আমিন ও রুহুল আমিন, দৌলতপুর গ্রামের শেখ আব্দুল্লাহর ছেলে মেহেদী হাসান সীমান্ত এবং বারোপোতা গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে ইউসুফ মোড়ল।
রাষ্টপক্ষের আইনজীবী স্পেশাল পিপি সাজ্জাদ মোস্তফা রাজা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন