পাটের দামে খুশি মণিরামপুরের কৃষক

আপডেট: 09:12:32 11/09/2020



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : ধানের ভালো দরের পর এবার পাটের দামে খুশি যশোরের মণিরামপুরের পাট চাষিরা। পাটের আশানুরূপ ফলন না হলেও দাম বেশি হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। দাম ভালো পেয়ে কিছু চাষি ইতিমধ্যে পাট বিক্রি করে ফেলেছেন। আবার অনেকে পাটের আঁশ ছাড়ানো বা শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে মণিরামপুরে চার হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে পাটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু পাটের চাষ হয়েছে চার হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় ১০০ হেক্টর কম।
এবছর বিঘাপ্রতি পাটের উৎপাদন ধরা হয়েছে সাড়ে ১৪ মণ। কিন্তু চাষের শুরুতে টানা খরা থাকায় দেরিতে চাষ করা পাটের ফলন ভালো হয়নি। তবুও দাম ভালো পেয়ে ক্ষতি পুষিয়ে লাভবান হচ্ছেন পাট চাষিরা।
মণিরামপুর বাজারের আড়তদার অসীমকুমার বলেন, ‘চলতি বছরের শুরুতে মণপ্রতি পাট কিনেছি এক হাজার ৭০০ টাকায়। এখন মণ চলছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকায়। যেখানে গতবছর পাটের মণ ছিল মাত্র এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা।’
উপজেলার মাহমুদকাটি গ্রামের চাষি আবুল ইসলাম বলেন, ‘একবিঘা জমিতে পাট চাষ করিছি। পাটের ফলন ভালো হয়নি। সাতমণ পাট পাবো বলে আশা করছি। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে পাট বিক্রির উপযোগী করতে ১৪ হাজার টাকা খরচ হবে। বাজারদর অনুযায়ী সাড়ে ১৫ হাজার টাকার পাট বিক্রি করা যাবে। আর পাটকাঠি বেচে সাড়ে চার হাজার টাকা পাবো। ফলন কম হলেও মোট মিলে ৫-৬ হাজার টাকা লাভ হবে। ইরি ধানের পর এবার পাটের দাম ভালো পেয়ে আমি খুশি।’
সরণপুর গ্রামের পাট চাষি আমিনুর রহমান বলেন, ‘সাত বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছি। দুইবিঘার পাট কিছুটা খারাপ হয়েছে। সেই ২০ মণ পাট এক হাজার ৯২০ টাকা করে আগেই বিক্রি করিছি। বাকি পাঁচ বিঘায় ১৫ মণ করে ফলন হবে বলে আশা করছি। এখন দাম যাচ্ছে দুই হাজার ৩০০ টাকা করে। বিঘা প্রতি ১৪-১৫ হাজার টাকা খরচ পড়েছে।’
পাটের বর্তমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে খরচের দ্বিগুণ লাভ হবে, এমনটি আশা করছেন এই চাষি।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরককুমার সরকার বলেন, ‘আমরা পাটের বিঘাপ্রতি লক্ষ্যমাত্রা ধরেছি সাড়ে ১৪ মণ। মাঝে খরা পড়ায় পাটের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তারপরও এবার ফলন ভালো। পাটের উচ্চমূল্য পেয়ে কৃষক খুশি। এই দাম অব্যাহত থাকলে আগামীতে পাটের ফলন বাড়বে।’

আরও পড়ুন