পণ দিয়ে ফিরলেন চার জেলে, ব্যাপক নির্যাতন

আপডেট: 03:42:18 19/01/2020



img

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : বনদস্যুদের দাবি করা মুক্তিপণের ছয় লাখ টাকা পরিশোধের পর রোববার সকালে বাড়িতে ফিরেছে সুন্দরবনে মাছ শিকারে গিয়ে অপহৃত মিয়ারাজ হোসেন (৩৫), রবিউল ইসলাম (৩০), কবির (২৬) এবং রিপন হোসেন (২৬) নামের চার জেলে।
তারা যথাক্রমে শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের কালিঞ্চি গ্রামের আব্দুল্লাহ খোকন, সাদেক গাজী এবং নাপিতখালী গ্রামের মকিম হালদার ও সিরাজুল হালদারের ছেলে।
মুক্তিপণের টাকা দিতে বিলম্ব ঘটায় জিম্মি অবস্থায় ব্যাপক শারীরিক নির্যাতনের শিকার চার জেলেকে রোববার দুপুরে পরিবারের পক্ষ থেকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সাত সদস্যের সশস্ত্র একটি গ্রুপ গত ১৪ জানুয়ারি বিকেল ও রাতে পশ্চিম সুন্দরবনের পুষ্পকাটি ও বাটুলে এলাকা থেকে ওই চার জেলেকে অপহরণ করে মুক্তির বিনিময়ে ছয় লাখ টাকা দাবি করে। তারা ‘আবু সালেহ কোম্পানি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক হিসেবে কোবাতক স্টেশন থেকে পাশ নিয়ে সুন্দরবনে ঢোকার পর অপহরণের শিকার হয়।
ফিরে আসা জেলে মিয়ারাজসহ অন্যরা জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার বনদস্যুরা নিজেদের ‘জিয়া বাহিনী’র সদস্য পরিচয়ে ছয়টি নৌকার ১২ জেলের মধ্যে থেকে তাদের চারজনকে উঠিয়ে নেয়। মুক্তিপণ বাবদ দস্যুরা তাদের কাছে তিন দিনের মধ্যে ছয় লাখ টাকা দাবি করে। জিম্মি অবস্থায় তাদের হাত-পা বেঁধে গরানের লাঠি দিয়ে পায়ের তালুসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে নির্যাতন করা হয়।
রমজাননগর ও গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন ও মাসুদুল আলম জানান, ফিরে আসা জেলেরা স্বাভাবিক হাঁটা-চলার সক্ষমতা হারিয়েছেন। তাই বাড়িতে ফেরার পরপরই তাদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন