নারিকেলবাড়িয়া ব্রিজ খুলে দেওয়ার দাবি

আপডেট: 08:57:59 14/05/2020



img

চন্দন দাস, বাঘারপাড়া (যশোর) : যশোরের বাঘারপাড়া ও মাগুরার শালিখা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত নারিকেলবাড়িয়া ব্রিজটি খুলে দেওয়ার দাবি করছেন দুই উপজেলার বাসিন্দারা।
করোনাভাইরাস সংক্রমন ঠেকাতে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যাতে কেউ অবাধে প্রবেশ না করতে পারে সেজন্য ব্রিজটি ঘিরে রাখে বাঘারপাড়া উপজেলা প্রশাসন। এ নিয়ে কাঁদা ছোড়াছুড়িতে মেতে ওঠেন দুই পারের বাসিন্দারা।
বাঘারপাড়ার ক্ষেত্রপালা গ্রামের বাসিন্দা মন্টু মিয়া জানান, নারিকেলবাড়িয়ার ইজিবাইকসহ অন্যান্য যানবাহন শালিখার সীমাখালী ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বাঘারপাড়া উপজেলার মানুষ দেখলেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
একই অভিযোগ করেন নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক ফজর আলী। তিনি জানান, ব্রিজ আটকে দেওয়ায় সীমাখালী যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করছেন শালিখা উপজেলার বাসিন্দারা।
এদিকে শালিখা উপজেলার হরিশপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘নারিকেলবাড়িয়া বাজার কাছাকাছি হওয়ায় আমরা এই বাজার থেকে কেনাবেচা করে থাকি। ব্রিজটি আটকে দেওয়ায় আমরা অনেক সমস্যায় পড়েছি।’
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমরা শালিখার মানুষ হলেও বাঘারপাড়া উপজেলার সাথে আমাগের যোগাযোগ বেশি। আর নারিকেলবাড়িয়া বাজারই আমাগের আসল বাজার। পথ বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক দূর থেকে বাজার করে আনতি হচ্ছে।’
জানতে চাইলে শালিখার শতখালি ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ঝন্টু অভিযোগ করে বলেন, ‘বাঘারপাড়ার নারিকেলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল সরদারের লোকজন আমার এলাকার মানুষকে ওই উপজেলায় ঢুকতে দিচ্ছে না। অশালীন কথাও বলছে তারা। প্রশাসনের নির্দেশে প্রথমে আমার এলাকা লক করা হযেছিল। পরে আলোচনার ভিত্তিতে খুলে দিয়েছি। কিন্তু তারা (নারিকেলবাড়িয়া ইউপি চেয়্রম্যানের লোকজন) ব্রিজ আটকে রেখেছে।’
বিষয়টি এখন দুই উপজেলার প্রশাসনের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেন চেয়ারম্যান ঝন্টু। চেয়ারম্যান আবুল সরদারের সাথে তার কোনো বিরোধ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এব্যাপারে নারিকেলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল সরদার বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ব্রিজ আটকে দেওয়া হযেছে। এতে আমার ব্যক্তিগত কোনো হাত নেই। আমার বিরুদ্ধে যারা কথা বলছেন, তারা মনগড়া অসত্য কথা বলছেন।’
স্থানীয়রা বলছেন, দুই উপজেলার সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন নয়। মূলত যানবাহন শ্রমিকদের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে দীর্ঘদিন ধরে। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা উপলক্ষ মাত্র।
এ ব্যাপারে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আফরোজ বলেন, ‘করোনাভাইরাস যাতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়াতে না পারে, সে জন্য নারিকেলবাড়িয়া ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে খুলে দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে। নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।’
অপরদিকে শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর রহমান বলেন, ‘দুই এলাকার সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করেনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে এক জেলা থেকে অন্য জেলার ছোট ছোট সীমান্তপথ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বর্তমানে একটা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে শুনেছি। আলোচনার ভিত্তিতে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।’

আরও পড়ুন