নাটক করে লাভ নেই : যশোরে মির্জা ফখরুল

আপডেট: 02:27:36 05/11/2019



img
img
img

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পরিশুদ্ধ হওয়ার নাটক করে লাভ নেই। দেশের সবকিছুই এই সরকার শেষ করে দিয়েছে।
ফখরুল বলেন, তারা যে দুর্নীতিবাজ, লুটপাটকারী, অর্থপাচারকারী তা স্বীকার করে নিয়েছে বলেই নিজেদের পরিশুদ্ধ করতে চাইছে। কিন্তু দেশের মানুষ জানে, কারা আসল লুটপাটকারী, কার ইঙ্গিতে এসব অপকর্ম সংঘটিত হয়েছে। সেকারণে চুনোপুঁটি ধরে কোনো লাভ হবে না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ সোমবার বিকেলে যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে তরিকুল ইসলাম স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন।
গত বছরের এই দিনে মারা যান বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম।
স্মরণসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, সচেতনভাবেই এই সরকার দেশের ব্যাংক থেকে এক লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আজ তারা কানাডার বেগমপাড়ায় বাড়ি কিনছে, ক্যাসিনোর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে মালয়েশিয়া, ইংল্যান্ডে বাড়িঘর করছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করছে।
তিনি বলেন, জোরজবরদস্তি করে আর ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। পৃথিবীর কোনো দেশে জোর করে কারো ক্ষমতায় চিরস্থায়ী হওয়ার নজির নেই।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন, মানুষের আজ বাক স্বাধীনতা নেই, সাংবাদিকরা লিখতে পারছে না।
যশোরে স্মরণসভার জন্যে মাঠ বরাদ্দ না দেওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করে ফখরুল বলেন, এই সরকার বিএনপিকে ভয় পায়, ভয় পায় জননেতা তরিকুল ইসলামের অনুসারীদের। সেকারণে আজকের এই স্মরণসভাকে তারা চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রীকে সম্পূর্ণ বিনাঅপরাধে প্রায় ২০ মাস কারাবন্দি করে রেখেছে সরকার। কেননা তিনি বাইরে থাকলে সরকার দেশের গণতন্ত্র, দেশের সার্বভৌমত্বকে বিকিয়ে দিতে পারতো না। তিনি বাইরে থাকলে ফেনী নদীর পানি দিতে পারতো না, তিস্তা নদীর হিস্যা আদায় হতো, আমদানিকৃত এলপিজি ভারতে রপ্তানি করতে পারতো না।’
‘এ সরকার উন্নয়নের নামে তামাশা করছে। মেগা প্রজেক্টের নামে এখন মেগা লুটপাট করা হচ্ছে। দেশ আজ ভয়াবহ দুঃশাসনের মধ্যে চলছে। তারা আমাদের বুকের ওপরে পাথর হয়ে চেপে বসে আছে। এই জঞ্জাল কেউ এসে সরিয়ে দেবে না; আমাদেরকেই সরাতে হবে।’
তরিকুল ইসলামের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তরিকুল ইসলাম ও আমি এই রাজনৈতিক স্কুলের সহপাঠী ছিলাম। তিনি সারাটা জীবন এদেশের কৃষক-শ্রমিক, মেহনতি মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখেছেন। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন রাজনীতিক। তার চলনে বলনে সবকিছুতেই ছিল রাজনীতির সুস্পষ্ট ভাব। জননেতা তরিকুল ইসলামের দেখানো পথ দিয়ে আমরা তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্বের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছিনিয়ে আনবো।’
যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও তরিকুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস বেগম স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন।
এতে অন্যদের মধ্যে আলোচনা করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বরকতউল্লাহ বুলু, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায়চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেহেদি হাসান রুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, আজিজুল বারী হেলাল, আবুল কালাম আজাদ, শাহারুজ্জামান মোর্তজাসহ খুলনা বিভাগের দশ জেলার নেতারা।
এর আগে মির্জা ফখরুলসহ নেতারা শহরের কারবালা গোরস্থানে তরিকুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন।

আরও পড়ুন