নদী ভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে বটিয়াঘাটার মানচিত্র

আপডেট: 01:01:50 07/03/2021



img

জিয়াউস সাদাত, খুলনা : অব্যাহত নদী ভাঙনে সঙ্কুচিত হয়ে চলেছে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা। বছরের পর বছর ভাঙনে নদীর কূলবর্তী বহু মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে। গৃহহারা এসব সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি কেউ। ভাঙনরোধে নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকর পদক্ষেপও। এতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের যেমন বেড়েছে ক্ষোভ, তেমনি এখনো যারা টিকে আছে তাদের মাঝে বেড়েছে আতঙ্ক।
বটিয়াঘাটা উপজেলা সদরের বাসিন্দা রূপককুমার সাহা বলেন, 'এক রাতে আমাদের বসতবাড়িসহ কয়েক বিঘা জমি কাজিবাছা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।'
জলমা ইউনিয়নের কচুবুনিয়া গ্রামের গৃহবধূ মিতুয়া রায় বলেন, 'আমাদের ভিটেবাড়িসব নদী ভাঙনে শেষ হয়ে গেছে। ভাঙন আমাদের নিঃস্ব করে দিয়েছে। যেটুকু ফসলি জমি ছিল তাও নদী গর্ভে চলে গেছে। এখন শুধু রয়েছে দীর্ঘশ্বাস।'
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ খুলনার সুন্দরবন উপকূলবর্তী এ উপজেলা নদীবেষ্টিত। উপজেলার অন্যতম নদ-নদীর মধ্যে কাজিবাছা, ঝপঝপিয়া, মাঙ্গা, ভদ্রা, শৈলমারী নদী উল্লেখযোগ্য। গত ৩-৪ বছর যাবৎ নদ-নদীগুলোর অব্যাহত ভাঙনে তীরবর্তী মানুষেরা ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহারা হয়ে চলেছে। পৈত্রিক ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকেই আজ নিঃস্ব। ইতোপূর্বে ভদ্রা নদীর ভাঙনে বারোআউড়িয়া বাজার ও বারোআউড়িয়া গ্রামের আংশিক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে ওই এলাকার পুলিশ ক্যাম্প, মসজিদ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মন্দির এবং পাউবোর অফিস ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছে। হুমকির মধ্যে রয়েছে ২০০ পরিবার। এছাড়াও পাশের ধানের গোডাউন ও অনেক সরকারি স্থাপনাও চরম হুমকির মুখে।
অপরদিকে, কাজিবাছা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিগত ৫-৬ বছর ধরে শত শত পরিবার গৃহহারা হয়েছে। মাঝখানে জিও টেক্সটাইলের মাধ্যমে খানিকটা ব্লক বসিয়ে ভাঙনরোধের চেষ্টা করা হলেও বর্তমানে ওই স্থানের ব্লকগুলো সরে গিয়ে গোটা উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। পুুরনো ফেরিঘাট এলাকায় সম্প্রতি বড় ধরনের একটি ভাঙন দেখা দেওয়ায় উপজেলা সদরের বাজার ও তার আশপাশ এলাকার ১০-১৫টি গ্রামের মানুষ রয়েছে ভাঙনের আতঙ্কে। অমাবস্যার গোন চলায় বর্তমানে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী পূর্ণিমার গোনে কখন না জানি আঘাত আসে। একই অবস্থা পানখালী ফেরিঘাট, বরণপাড়া মোড়ে। উপজেলার ৩০ নম্বর পোল্ডারের বরইতলা নামক স্থানে প্রায় দেড় কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অবস্থা চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে উক্ত স্থানের খুলনা-চালনা মহাসড়কের তলদেশের দুই-তৃতীয়াংশ মাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে কিসমত ফুলতলা, দেবীতলা, বাদামতলা, ফুলতলা,  হেতালবুনিয়া, বসুরাবাদসহ নয়টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে কাজিবাছা নদীর উপকূলবর্তী বেড়িবাঁধ চরম হুমকির ভেতরে রয়েছে। এতে দুই উপজেলা দাকোপ ও বটিয়াঘাটার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন হয়ে পড়বে বলে এলাকাবাসীর অভিমত। দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহতভাবে এ নদী ভাঙন মানুষকে সর্বস্বান্ত করে দিলেও পাউবোর পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। যেকারণে ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের মনে ক্ষোভ বেড়েই চলেছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুল আলম খাঁন জানান, এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে বটিয়াঘাটা উপজেলা অনেক ছোট হয়ে যাবে। তবে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলাপ আলোচনা হয়েছে; অচিরেই এ ভাঙনকবলিত এলাকার সমস্যার সমাধান করা হবে।
জানতে চাইলে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী এ প্রতিনিধিকে জানান, বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন শুরু হওয়ার বিষয়টি তাদের দৃষ্টিতে আছে। সমস্যার সমাধানে দ্রুতই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। উপজেলা সদর রক্ষা বাঁধ ও ভাঙনকবলিত স্থান রক্ষার জন্য প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে কাজে হাত দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন