দেশে করোনায় প্রথম মৃত্যু

আপডেট: 08:29:06 18/03/2020



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : দেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে বুধবার (১৮ মার্চ) এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তার বয়স ৭০-এর বেশি। তিনি বিদেশফেরত নন, তবে বিদেশ থেকে আসা এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তিনি সংক্রমিত হন। সংক্রমণের পর তিনি আইসিইউতে ছিলেন। এছাড়া তিনি ডায়াবেটিক, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি সমস্যা ও হৃদরোগে ভুগছিলেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।
মারা যাওয়া ওই ব্যক্তি একজন পুরুষ এবং রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
তবে আইইডিসিআর এসব তথ্য প্রকাশ করেনি। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘নতুন করে চার জন আক্রান্ত হয়েছেন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ জন। নতুন করে আক্রান্তের মধ্যে একজন নারী ও তিন জন পুরুষ। আক্রান্তদের একজন আগে যারা আক্রান্ত ছিলেন তাদের পরিবারের সদস্য। বাকি তিন জন বিদেশ থেকে এসেছেন। এদের দুই জন ইতালি, একজন কুয়েত থেকে এসেছেন। এখন পর্যন্ত ১৬ জন আইসোলেশনে আছেন। আর ৪২ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন।’
প্রসঙ্গত, প্রথম ইতালি থেকে আসা দুই পুরুষ এবং দেশে থাকা তাদের একজনের এক নারী আত্মীয় করোনায় আক্রান্ত হন। গত ৮ মার্চ এ তথ্য জানায় আইইডিসিআর। তারা তিন জনই চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এরপর গত ১৪ মার্চ জার্মানি ও ইতালি থেকে আসা আরও দুই ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

যশোরে ৫৯ জন ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে সন্দেহে যশোর জেলায় আজ (১৮ মার্চ) পর্যন্ত  ৫৯  জনকে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখা হয়েছে । এদের মধ্যে বেশিরভাগই বিদেশ থেকে আসা এবং তাদের সাহচর্যে থাকা লোকজন। ১৭ মার্চ এই সংখ্যা ২৪জন ছিল।  
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন আজ বিকেলে এই তথ্য দিয়েছেন। 
যশোর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, ৭ মার্চ ইতালি থেকে যশোরের চৌগাছায় ফেরেন এক দম্পতি। এরপর তারা ঝিনাইদহে গেলে সেখানে প্রথম তাদের হোম কোয়ারেনন্টাইনে রাখা হয়। অপরদিকে চৌগাছায় ওই ব্যক্তির বাবাসহ পরিবারের ৬ জনকে স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মীরা হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখেন। ৮ মার্চ সৌদিআরব থেকে মণিরামপুরে ফেরেন এক নারী। ১৩ মার্চ শার্শার এক ব্যক্তি ইতালি থেকে ফেরেন। ১৬ মার্চ ওমান থেকে ফেরেন এক নারী। স্বাস্থ্যবিভাগ বিদেশ ফেরৎ ওইসব ব্যক্তিদের সাথে সাথে তাদের সংস্পর্শে আসা লোকজনকেও বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখেছে। 
সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যাদের আমরা তত্ত্বাবধানে রেখেছি, তাদের প্রত্যেকের কাছে আমাদের ফোন নাম্বার রয়েছে। তাদের ফোন নাম্বারও আমাদের কাছে রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত তাদের শরীরে করোনার কোনও লক্ষণ পাওয়া যায়নি। সকলেই সুস্থ রয়েছেন। 
তিনি বলেন, আমরা তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে কী কী নিয়ম পালন করতে হবে- সেগুলো বুঝিয়ে দিয়েছি। একইসঙ্গে স্থানীয় গন্যমান্যদের বিশেষ করে দায়িত্বশীলদের তাদের বিষয়ে নজর রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন