দুগ্ধপোষ্য বাছুরটিও দুধ দেয়

আপডেট: 09:11:59 07/06/2020



img

বিশেষ প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ : মায়ের দুধ খাচ্ছে, আবার নিজেও দুধ দিচ্ছে। এমনই একটি ছয় মাস বয়সী বাছুরের সন্ধান মিলেছে কালীগঞ্জ উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামে। বাচ্চাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সরস্বতী’।
বাচ্চার মালিক কনজ বিশ্বাস প্রতিদিন গড়ে মা গরু থেকে তিন কেজি আর বাছুরটি থেকে ৩০০ গ্রাম করে দুধ পাচ্ছেন। গত একমাস চলছে এমন অবস্থা।
অবশ্য কনজ বিশ্বাসের দাবি, বাচ্চাটির শরীর থেকে ঠিকমতো দুধ বের করলে আরো বেশি পাওয়া যাবে। কিন্তু তার স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে কম করে দুধ নেওয়া হচ্ছে। একেবারেই না নিলে মাটিতে ফোটা ফোটা ঝরে পড়ে দুধ।
তিনি জানান, এই দুধ তারা খেয়েছেন, এখন পাশের একটি মন্দিরে পুজোর জন্য দিচ্ছেন। অনেকে এই দুধ নিতে তার বাড়িতে ভীড় করছেন।
শনিবার সকালে কনজ বিশ্বাসের স্ত্রী মৈত্রী বিশ্বাসকে বাচ্চা গরুটি শরীর থেকে দুধ বের করতে দেখা গেছে। এ সময় বাচ্চাটি (সরস্বতী) তার মায়ের দুধ পান করছিল। তিনশ’ গ্রামের মতো দুধ সংগ্রহের পর হাত গোটান মৈত্রী বিশ্বাস।
তিনি জানান, এখনো বাচ্চাটির শরীরে দুধ রয়েছে। কিন্তু তার স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে আর দুধ নিচ্ছেন না।
গরুটির মালিক কনজ বিশ্বাস জানান, দুধ পানের জন্য তারা একটি গাভী পালন করেন। তিন বছর হয়েছে গাভীটির একটি বাচ্চা হয়, যার নাম রাখা হয় ‘গঙ্গা’। এরপর গত বছরের ৯ ডিসেম্বর গাভীটি আরেকটি বাচ্চা দেয়। এটির নাম রাখা হয় ‘সরস্বতী’।
তিনি জানান, মাসখানেক আগে হঠাৎ করে বাচ্চাটির শরীর থেকে দুধ বের হতে দেখা যায়। মাঝে মধ্যে দুধ মাটিতে পড়ে থাকতে শুরু করে। এই অবস্থায় একদিন বাচ্চার শরীর থেকে ৩০০ গ্রামের বেশি দুধ নেওয়া হয়। বিষয়টি প্রতিবেশিদের জানালে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেন। এরপর তিনি একজন পশু চিকিৎসকের কাছে যান। ডাক্তার বাছুরটির শরীরের দুধ ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে শুকিয়ে ফেলার পরামর্শ দেন। কিন্তু গ্রামের লোকজন সেটার বিপক্ষে গিয়ে বাচ্চার শরীর থেকে বের হওয়া দুধ মন্দিরে দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, প্রথম কয়েকদিন বাচ্চার দুধ তারা খেয়েছেন, এখন মন্দিরে দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার এএসএম আতিকুজ্জামান জানান, এ জাতীয় ঘটনা খুবই কম শোনা যায়। তবে হরমোনজনিত সমস্যায় অনেক সময় এটা হতে পারে। বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। অল্পদিনেই এটা বন্ধ হয়ে যাবে জানিয়ে এই ডাক্তার বলেন, ‘এটি কোনো অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা না।’

আরও পড়ুন