দুই হাজার টাকা নিয়ে নায়েবের ৫২ টাকার রশিদ!

আপডেট: 12:40:28 19/02/2020



img
img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরের গাঙ্গুলিয়া গ্রামের কানাই কর্মকার। লোহা পিটিয়ে সংসার চলে তার। বাবা চণ্ডিচরণ কর্মকারের সূত্রে পাওয়া ১১ শতক ধানি জমি বিক্রি করবেন তিনি। জমি বিক্রি করতে গেলে জমির খাজনা পরিশোধের রশিদ লাগে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে। সেই জন্য গত ২২ জানুয়ারি জমির দাখিলা কাটতে সংশ্লিষ্ট রোহিতা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান তিনি।
অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা গোলাম রসুল ছয় হাজার টাকা দাবি করে বসেন। অবশেষে নায়েবকে দুই হাজার টাকা দিয়ে দাখিলা কাটান তিনি। নায়েব টাকা নিয়ে তাকে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদ দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু রসিদে তিনি দুই হাজার টাকা উল্লেখ করেননি। করেছেন মাত্র ৫২ টাকা।
রোহিতা ইউনিয়নের বাগডোব গ্রামের মতিয়ার রহমানের মা সায়েরা বেগম ও খালা আনোয়ারা বেগমের দুই শতক আবাদি জমি বিক্রি করার উদ্দেশে গত ১২ জানুয়ারি ওই ভূমি কর্মকর্তার কাছে যান। তিনি মতিয়ারের কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে মাত্র দশ টাকার রশিদ দিয়েছেন।
সরেজমিন এই প্রতিবেদকের কাছে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কানাই ও মতিয়ার; যা সংরক্ষিত আছে।
সোমবার সকালে সরেজমিন গাঙ্গুলিয়া আমতলা মোড়ে দেখা যায়, হাতুড়ি দিয়ে গরম লোহা পিটিয়ে সোজা করছেন কানাই কর্মকার। এসময় কথা হয় তার সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘‘১১ শতক ধানি জমি বেচার জন্য দাখিলা কাটতে যাই রোহিতা ভূমি অফিসে। নায়েব গোলাম রসুল ‘দাখিলার রসিদ নেই’ বলে ১৫-২০ দিন ঘোরায়। পরে একদিন ছয় হাজার টাকা দাবি করে। আমি দুই হাজার টাকা দিয়ে রসিদ দিতে বলি। তিনি রসিদ দেন। পরে বাড়ি এসে দেখি রশিদে ৫২ টাকা পরিশোধের কথা উল্লেখ আছে।’’
‘আমরা গরিব মানুষ। আমাদের সাথে এরাম করলি হবে কী করে?’- প্রশ্ন কানাই কর্মকারের।
মতিয়ার রহমান বলেন, ‘নানির সূত্রে মা ও খালা দুই শতক জমি পাইল। তা বিক্রি করার জন্য দাখিলা কাটতি হবে। নায়েব অফিসি গিলি সে এক হাজার টাকা নিইল। কিন্তুক রশিদ দেছে দশ টাকার।’
শুধু কানাই বা মতিয়ার নন, নায়েব গোলাম রসুলের হাতে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ সেবার নামে প্রতারিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয়রা জানান, নায়েব নিজেই সেবা নিতে আসা লোকজনের কাছে মোটা অংকের টাকা চান। টাকা দিতে না পারলে তাদের ফোন নম্বর রেখে দেন। পরে তাদের ফোনে ডেকে এনে সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে কাজ করে দেন। ছুটির সত্ত্বেও প্রতি শনিবার তিনি একা অফিসে এসে এসব কাজ করেন। স্থানীয় দুই-তিনজন দালালের মাধ্যমে তিনি অপকর্ম করেন বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীরা নায়েব গোলাম রসুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছেন।
রোহিতা ইউনিয়নের পট্টি-স্মরণপুর ওয়ার্ডের মেম্বর আমিনুর রহমান বলেন, ‘নায়েব গোলাম রসুলের ব্যাপারে এসিল্যান্ডের কাছে অভিযোগ করেছি। কিন্তু লাভ হয়নি।’
অভিযোগের বিষয়ে রোহিতা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা গোলাম রসুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যার কাছ থেকে যা নেওয়া হয়েছে, রশিদে তা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ওই সময় এক ব্যক্তিকে ১৪২ টাকার দাখিলার রশিদ দিয়ে নায়েবকে এক হাজার ৭৪২ টাকা নিতে দেখা গেছে।
বিষয়টি জানানো হলে এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসান বলেন, এই ব্যাপারে তার কিছু বলার নেই। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার সরকারি ও তার ব্যক্তিগত নম্বরে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এই ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট নায়েবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন