দায়িত্ব নিলেন বিপুল, মুখে হাসি সুরাইয়ার

আপডেট: 03:24:03 06/06/2020



img

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি : বাঘারপাড়ায় এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া দরিদ্র শিক্ষার্থী সুরাইয়া খাতুনের লেখাপড়ার সব দায়িত্ব নিলেন যশোর জেলা পরিষদ সদস্য ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার বিপুল ফারাজী।
গত ৪ জুন অনলাইন নিউজ পোর্টাল সুবর্ণভূমিতে আঁধার ঘরে চাঁদের আলো সুরাইয়া শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটি পড়ে ইঞ্জিনিয়ার বিপুল ফারাজী শনিবার সকালে ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে তার প্রতিনিধিকে পাঠান। মাস দুয়েক হলো সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ই্িঞ্জনিয়ার বিপুল ফারাজী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সুরাইয়ার মায়ের সঙ্গে সেল ফোনে কথা বলে তার মেয়ের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন বিপুল। কলেজে ভর্তি, প্রাইভেট পড়ার খরচ, জামাকাপড়, বই-খাতা-কলমসহ লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ বহন ও সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
বাঘারপাড়ার নারিকেলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের ভ্যানচালক মনিরুল শিকদারের মেয়ে সুরাইয়া খাতুন।
ভালো রেজাল্টে আনন্দে ভাসলেও সুরাইয়ার বাবা-মাকে ভর করে হতাশা। মেয়েকে কলেজে ভর্তিসহ পরবর্তীতে লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়ার খরচ কীভাবে জোগাবেন- তা নিয়ে হতাশা দেখা দেয়। আয়ের উৎস বলতে তাদের একটিমাত্র ভ্যানগাড়িই ভরসা। যা কেনা হয় কিস্তিতে। ইঞ্জিনিয়ার বিপুল ফারাজী সহযোগিতার ঘোষণায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন সুরাইয়ার বাবা-মা।
মা কোহিনুর বেগম বলেন, ‘বিপুল ফারাজী অসুস্থ থাকায় মোবাইল ফোনে আমার সাথে কথা বলিছে। আমার মেয়ের লেখাপড়ার সব দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। আমি নামাজ পড়ে তার জন্য দোয়া করবো।’
ভ্যানচালক বাবা মনিরুল শিকদার বলেন, ‘বিপুল ফারাজীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি আমাগের চিন্তামুক্ত করিছেন।’
ইঞ্জিনিয়ার বিপুল ফারাজী বলেন, ‘দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে মেধাবী শিক্ষার্থী সুরাইয়ার পাশে থাকতে চাই। রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণে। আমি মনে করি এটা আমার নৈতিক দায়িত্ব।’
এদিকে, এলাকার কয়েক যুবকও সুরাইয়ার লেখাপড়ায় সহযোগিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। এদের মধ্যে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের রিয়াজ মানিক একজন। ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত রিয়াজ মানিক বলেন, ‘এলাকার মানুষ হিসেবে সুরাইয়ার পাশে থাকতে চাই।’

আরও পড়ুন