দামুড়হুদার ‘বজ্রশেল্টার’

আপডেট: 02:02:48 06/07/2020



img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গায় বাজ পড়া থেকে রক্ষা পেতে লাগানো হচ্ছে তালগাছ। ফাঁকা মাঠে ও রাস্তার পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে বজ্রশেল্টার এবং লাগানো হচ্ছে তালগাছ।
দামুড়হুদার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে এবং রাস্তার পাশে প্রায় এক হাজার ১০০টি তালগাছের চারা লাগানো হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচটি বজ্রশেল্টার। দেশে সম্প্রতি বাজ পড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ করে মাঠে কর্মরত কৃষকদের রক্ষা করতে বজ্রশেল্টার নির্মাণ করা হচ্ছে। বাজ পড়ে প্রাণহানি ঠেকাতে স্বউদ্যোগে এ কাজ করে যাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, সাধারণত উঁচু গাছে বাজ পড়ে। তালগাছ, নারিকেলগাছ, সুপারিগাছে বেশি বাজ পড়ে থাকে। এতে বেশিরভাগ সময় মাঠে কর্মরত কৃষক মারা যান। কৃষকদের প্রাণহানি থেকে রক্ষা করতে চলতি মৌসুমে দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ চত্বর, পুড়াপাড়া, জয়রামপুর এবং হৈবতপুর গ্রামের মাঠের রাস্তার পাশে এক হাজার ১০০টি তালগাছের চারা লাগানো হয়েছে। আগামী মৌসুমের জন্য তালের আঁটি সংগ্রহ করে চারা তৈরির কাজও চলছে। শুধু তাই না, বাজ পড়ার সময় আশ্রয় নেওয়ার জন্য দামুড়হুদা উপজেলার গোবিন্দহুদা, নতিপোতা, কুড়ুলগাছী, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ও হাউলী ইউনিয়নের ফাঁকা মাঠে এবং রাস্তার পাশে বজ্রশেল্টার নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে বাজ পড়ার সময় করনীয় সম্বন্ধে নির্দেশনা দিয়ে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, তালগাছের শেকড় ভেষজ ওষুধ হিসেবে ভালো কাজে আসে। এই গাছ থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। সেই সঙ্গে তালের শাঁস, পাকাতালের বড়া, তালমিসরি পাওয়া যায়। তাল ভিটামিনসমৃদ্ধ। এই গাছ বাবুই পাখির আবাসস্থল। গাছের পাতায় হাতপাখা তৈরি করা হয়। তালগাছ দিয়ে মাছধরা কাজে বা পানিতে ব্যবহারের ডিঙি তৈরি করা হয়; ঘরের সিলিঙের কাঠ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। শুধু তাই নয় এই গাছের শেকড় গুচ্ছ হওয়ায় সড়ক ও নদীরপাড় ভাঙন থেকে রক্ষা করে। সে কারণে কৃষকদেরকেও তালগাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন