তালায় পানচাষিদের সুদিন

আপডেট: 01:37:14 27/01/2021



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় পান চাষ দিন দিন বাড়ছে। আম্পানের ক্ষতিসহ নানা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নতুন করে চাষ শুরু করেছেন এ অঞ্চলের চাষিরা। তারা বলছেন, এবছর ভালো ফলন হয়েছে এবং ভালো দাম পাচ্ছেন। ফলে তারা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। কৃষি বিভাগ বলছে, এ অঞ্চলের পানের দেশে ও বিদেশে চাহিদা রয়েছে। ফলে লাভবান হবেন চাষিরা।  
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তালা উপজেলার প্রায় সব কয়টি ইউনিয়নে পান চাষ হয়। এর মধ্যে কুমিরা, খলিষখালী, মাগুরা, তালা, ধানদিয়া, ইসলামকাটি, তালা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পান চাষ হয়।
এ উপজেলার কুমিরা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, ইউনিয়নটিতে অনেক পানের বরজ রয়েছে। প্রত্যেক বরজে সারি সারি পানের লতা। প্রতিটি লতা দুই পাশে পান ভরে গেছে। চাষিরা জানান, পান গাছ লাগানোর ছয় মাস পর থেকেই ফলন পাওয়া যায়। আর একবার লাগানো পান গাছ থেকে প্রায় ২০-২৫ বছর পান পাতা সংগ্রহ করা যায়। ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় পান চাষে লাভের পরিমাণ অনেক  বেশি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পানের ফলন ভালো হয়েছে। একই সাথে দাম ভাল থাকায় পান চাষিরা বেজায় খুশি।
তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের রাঢ়িপাড়া গ্রামের তবিবর রহমান সরদার খলিষখালী ইউনিয়নের অজয় দত্ত, দোহার গ্রামের আব্দুস সালাম এবং মাগুরা ইউনিয়নের দীপক, অশোককুমার জানান, এক বিঘা পান চাষ করতে প্রায় এক লাখ টাকার বেশি খরচ হয়। একবার খরচ করলে বরজ থেকে ২০-২৫ বছর পান সংগ্রহ করা যায়। প্রতি বছর ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার পান বিক্রি করা যায়। এ বছর পানের আবাদ খুব ভালো হয়েছে। এক পোন পান ২০০ থেকে ২২৫ টাকা দরে বিক্রি করেছেন তারা। স্বল্পসুদে ঋণ পেলে পান চাষ আরও বাড়ানো যেত বলেও জানান তারা।
কুমিরা গ্রামের তবিবর রহমান সরদার বলেন, 'আমাদের উৎপাদিত পান ঢাকা, খুলনাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। পান চাষ বেশ লাভজনক কিন্তু এ বছর আম্পানের কারণে পানের বরজ লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ায় চাষিরা বেশ লোকসানে আছে। তবে নতুন করে পানের দাম পাওয়াতে চাষিরা বেশ খুশি।'
সাতক্ষীরার তালা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা বেগম বলেন, এ বছর তালায় ৪২৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা করতে পারলে পান চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ বছর পানচাষিরা ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো দাম পেয়েছেন। আগামীতে কৃষকরা পানচাষে আরো আগ্রহী হবেন বলে আমি আশা করি। তালার পান স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন বাজারসহ বিদেশেও পাঠানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন