তবুও কাজে যেতে হচ্ছে

আপডেট: 02:05:18 28/03/2020



img
img
img

শহিদুল ইসলাম দইচ: করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় কাজ করছেন দিনমজুররা। 
অন্যদিকে, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং করোনাভাইরাস আতঙ্ক প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত, সেনাসদস্য ও পুলিশ নিয়ে অভিযান পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। মাইকিং করা হচ্ছে, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেন ঘর থেকে বাইরে বের না হন।
এতোকিছুর পরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন দিনমজুররা। যশোর শহরের চুড়িপট্টি বড়বাজার থেকে শুরু করে রেলবাজার, বারান্দী বউবাজার, সিটি কলেজ-সংলগ্ন বউবাজার, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন বাজারের সবজি ও  মুদি দোকানিরা নিয়মিত দোকানদারি করছেন।
চৌরাস্তা, জেনারেল হাসপাতাল মোড়, খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, রেলজংশন, মণিহার চত্ত্বর, মুড়লি মোড়সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় চোখে পড়ে ইজিবাইক, রিকশা-ভ্যান চলাচল করছে। কোনো কোনো স্থানে চায়ের দোকান খোলা রয়েছে। নিম্নআয়ের এইসব মানুষ আতঙ্কের ভেতরও কাজ করে চলেছেন জীবিকার তাগিদে।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অবশ্য গোটা জেলায় হতদরিদ্রদের জন্যে সরকারিভাবে চাল, ডাল, আলু, সাবান ইত্যাদি দেওয়া শুরু হয়েছে।
শহরের কাঁচামাল ব্যবসায়ী ও মুদি দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের ভেতরে ভয়  ও আতঙ্ক থাকলেও বাড়ি থেকে বের হতে হচ্ছে। বউ-বাচ্চা, মা-বাবাকে তো খাওয়াতে হবে! তাছাড়া ঋণের কিস্তির টাকাও পরিশোধ করতে হবে।
কথা হয় রিকশাচালক জামালউদ্দিন, ইকতিয়ার হোসেন, গফুর মিয়া, আলিম গাজীসহ বেশ কয়েকজন দিনমজুরের সঙ্গে। তারা বলছেন, খিদে মেটাতে হলে কাজ করতে হবে, তাই রিকশা নিয়ে বের হওয়া। ভয় যেমন লাগছে, আবার পেটেরও চাহিদা আছে। সেনাসদস্য, পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে যাতে না পড়তে হয়, সেভাবেই চলছেন তারা।
ইজিবাইক-চালক মুন্না শেখ, জাকির হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, করিম মিয়াসহ অনেকেই বলছেন, ঘরে কয়দিন বসে থাকবেন? ভয় পেলে তো না খেয়ে থাকতে হবে। যা হয় হব- এমন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন তারা। তাদের ভাষ্য, টাকা আয় করে বাজার-সদাই করে বাড়ি ফিরলে পরিবারের সদস্যরা খাবে।
শহরের লালদিঘিতে আসা দিনমজুর গফফার কাজী, মানিক মিয়া, কাজল শেখ,  দীন ইসলাম লাবুসহ উপস্থিতরা বলেন, তারা কাজ না পেয়ে বসে আছেন। কেউ কাজে নিচ্ছেন না। বাড়ি বাজার নেই, কীভাবে খাবার জুটবে?
জানতে চাইলে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, সরকারিভাবে দিনমজুরদের মাঝে নগদ ছয় লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরো বাড়ানো হবে।

আরও পড়ুন