টাকা নিয়ে বাঁওড়পাড়ে ব্যাংক কর্মকর্তারা

আপডেট: 01:46:27 19/11/2019



img
img

বিশেষ প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ : কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তারা ঋণের টাকা নিয়ে হাজির হয়েছেন মৎস্যজীবীদের দুয়ারে। স্বল্প সুদে এই ঋণ দিচ্ছেন তারা। আর ঋণের টাকা নিয়ে মৎস্যজীবী বাঁওড় থেকে মাছ আহরণের উপকরণ কিনবেন। এই মাছ ধরেই চলে তাদের সংসার। 
মৎস্যজীবীদের ভাষায় তাদের এই ঋণের জন্য মাসের পর মাস ব্যাংগুলোতে ধরনা দিতে হতো। এরপরও অনেক সময় ঋণ না পেয়ে মহাজনের কাছ থেকে জাল-দড়া ভাড়া নিয়ে মাছ ধরতে হতো। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। এবার ব্যাংক কর্মকর্তারা বাঁওড়ের পাড়ে এসে মৎস্যজীবীদের হাতে মাছ ধরার জন্য উপকরণ কিনতে ঋণ দিলেন। ঋণ পেয়ে তারা খুবই খুশি। সোমবার সকালে কৃষি ব্যাংকের ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে এই ঋণ দেওয়া হয়েছে।
ঋণ পেয়েছেন এমন একজন পুড়াপাড়া গ্রামের বদর উদ্দিন জানান, মহেশপুর উপজেলার স্বরুপপুর ইউনিয়নের পুড়াপাড়া গ্রামের মাঝে রয়েছে বাঁওড়। তারা বাঁওড় পাড়ের বাসিন্দা। সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে তারা সমিতির মাধ্যমে এই বাঁওড়ে মাছের চাষ করেন। তাদের সমিতির নাম পুড়াপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। এই সমিতির সদস্য সংখ্যা ১৯৭। তিনি এই সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সমিতিতে যারা আছেন তারা সবাই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে জীবন-যাপন করেন। এরা বাঁওড়ে মাছ চাষ এবং সেই মাছ ধরে বিক্রি করেই বেঁচে আছেন।
বদর উদ্দিন আরো জানান, মৎস্যজীবীরা হতদরিদ্র হওয়ায় প্রতিবছর মাছ আহরণের সময় তাদের জাল-দড়া ভাড়া করতে হতো। যে কারণে মাছ বিক্রির একটা অংশ চলে যেতো মহাজনের ঘরে। অনেকে বাইরে থেকে সুদের বিনিময়ে টাকা ধার নিয়ে উপকরণ ক্রয় করেন। যে কারণে তারা ব্যাংকগুলোতে যোগাযোগ করেন মৎস্য আহরণের আগে ঋণের জন্য। অনেক সময় পেতেন, আবার অনেক সময় পেতেন না। এভাবে কষ্ট করে তাদের মাছ ধরা মৌসুম পার করতে হতো।
তিনি জানান, এ বছর তারা সমিতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মহেশপুর শাখায় যোগাযোগ করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষও আগ্রহ প্রকাশ করেন এই ঋণ বিতরণে।
কৃষি ব্যাংকের মহেশপুর শাখা ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন জানান, মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যরা ঋণের জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর ব্যাংকের নিয়ম মেনে প্রত্যেক সদস্যকে দশ হাজার টাকা করে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুযায়ী দাপ্তরিক সব কাজ শেষে ১৮ নভেম্বর ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি বলেন, মৎস্যজীবীরা দরিদ্র এবং ঋণের পরিমাণ কম হওয়ায় এই ঋণ পেতে তাদের যেন কোনো ব্যয় না করতে হয় সে জন্য ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাঁওড়পাড়ে হাজির হন। পুড়াপাড়া বাঁওড়ের পাড়ে উপস্থিত হয়ে তারা এই ঋণের টাকা মৎস্যজীবীদের হাতে তুলে দেন।
আমজাদ হোসেন জানান, তারা ১৭০ জন মৎস্যজীবীর হাতে এই টাকা তুলে দিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. এনায়েত করিম। আরো উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় স্বরুপপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন প্রমুখ।
মাত্র ৯% সুদে প্রকাশ্যে এই ঋণ দিচ্ছেন তারা । এক বছরের মধ্যে এই টাকা পরিশোধ করা যাবে।
সমিতির এক সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানান, এই টাকা পেয়ে তারা খুবই খুশি। টাকা দিয়ে মাছ আহরণের উপকরণ কিনবেন। এতে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
তিনি বলেন, ঋণের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। এবার ব্যাংক কর্মকর্তারা ঋণের টাকা নিয়ে তাদের দুয়ারে এসেছেন- এটা ভেবে খুব ভালো লাগছে। তবে টাকার পরিমাণ দশ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার করলে ভালো হতো। কারণ বর্তমানে মাছ আহরণের উপকরণের দাম অনেক বেশি। বিষয়টি ব্যাংক কর্মকর্তারা দেখবেন বলে তিনি আশা করেন।

আরও পড়ুন