ঝিনাইদহে গলদা চাষে সফল হলেন স্বপন

আপডেট: 05:08:53 25/10/2020



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : কালীগঞ্জে মিঠা পানিতে গলদা চিংড়ি চাষ করে সফল হয়েছেন স্বপনকুমার বিশ্বাস নামে এক চাষি। জেলায় প্রথম তিনি পরীক্ষামূলক চাষ করে সফলতা পেয়েছেন।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ৮০ শতাংশ জমির ৬৬ শতক জলাকর এলাকায় তিন হাজার ২০০ গলদার রেণু ছাড়েন তিনি। সাত মাস পর এখন আট থেকে নয়টি চিংড়ির ওজন এক কেজি। প্রতি কেজি চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায়।
গেল রোববার দশ কেজি চিংড়ি তিনি ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
সফল এই মাছচাষি স্বপনকুমার বিশ্বাসের বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর দুর্গাপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামে। পাশাপাশি তিনি কালীগঞ্জ মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
স্বপনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে বাগেরহাট থেকে রেণু সংগ্রহ করেন তিনি। সাত মাসে মাছের খাবার ও পরিচর্যায় খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। পুকুরে যে চিংড়ি আছে তা ৩০০ কেজির বেশি হবে। সেই হিসেবে চিংড়ি বিক্রি করা যাবে তিন লক্ষাধিক টাকার।
চিংড়ি চাষের ঝুঁকি সম্পর্কে স্বপন জানান, পানিতে অ্যামোনিয়া গ্যাস আর অক্সিজেন পরিমাণমতো রাখতে হয়। আর রাতে শেয়ালের উপদ্রব ঠেকাতে পারলে চিংড়ি চাষ লাভজনক করা সম্ভব।
সফল এই মাছচাষি স্বপন এর আগে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ক্ষেত্র সহকারী হিসেবে চাকরি করতেন। সেখানেই তিনি চিংড়ি চাষ সম্বন্ধে হাতেকলমে শিক্ষা অর্জন করেন। কালীগঞ্জে বদলি হয়ে আসার পর তিনি তাই নিজ গ্রামের বাড়িতে গলদা চিংড়ির চাষ করার সুযোগ পেয়েছেন।
স্বপনকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আমি মৎস্য অফিসে চাকরি করি। মাছ চাষ সম্পর্কে প্রচুর প্রশিক্ষণ নেওয়া আছে। ফিসারিজের ওপর চার বছরের ডিপ্লোমা করা আছে। কিন্তু সরকারি অফিসের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মাছ চাষের সুযোগ ছিল না। বর্তমানে আমার এলাকায় চাকরি করছি। যে কারণে গ্রামের বাড়িতে একটি পুকুরে গলদা চিংড়ির সাথে দেশি অন্যান্য মাছের সমন্বিত চাষ করার সুযোগ হয়েছে। আমার নির্দেশনা মতো মাছ চাষ দেখাশোনা করে ছেলে।’
কালীগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ সাইদুর রহমান রেজা জানান, ঝিনাইদহের আবহাওয়া এবং পানি গলদা চাষের জন্য উপযুক্ত। এ এলাকার চাষিরা যদি গলদা চাষ শুরু করেন তাহলে তারা একদিকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন, অন্যদিকে দেশীয় মাছের চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবেন।
স্বপনের চিংড়ি চাষ সম্পর্কে এই মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, কালীগঞ্জ মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি সহযোগিতা করা হয়েছে। এছাড়া চিংড়ি চাষের প্রতিটি পর্যায়ে সুচারুভাবে দেখভাল করা হয়েছে।

আরও পড়ুন