জোয়ারের পানি ঢুকিয়ে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি

আপডেট: 10:38:17 25/07/2020



img

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : একদিকে নদীতে পানি বৃদ্ধি, অপরদিকে প্রবল বৃষ্টি এরই মধ্যে পরিকল্পিতভাবে গেট দিয়ে পানি তুলে খুলনার পাইকগাছার কেওড়াতলা এলাকা প্লাবিত করে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মন্দির, মাছের ঘের, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘর-বাড়ি।
জানা যায়, উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের কেওড়াতলা মৌজায় হাজার বিঘার অধিক চিংড়ির ঘের রয়েছে। বসবাস করেন শত শত মানুষ। গত কয়েকদিন ধরে ভারি বৃষ্টি ও নদীতে জোয়ারের পানি বাড়ে। এ সময় স্থানীয় গেটের খাল ইজারাদার ও কয়েকজন ঘের মালিক পরিকল্পিতভাবে গেটের পাট তুলে জোয়ারের পানি ঢুকিয়ে দেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার জোয়ারের পানিতে কেওড়াতলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ছোট বড় চিংড়ির ঘের, বসতবাড়ি, মন্দির ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পাকা রাস্তার ওপর প্রায় হাঁটুপানি। এলাকার মানুষের যাতায়াতের ব্যাপক অসুবিধা হয়।
স্থানীয় রনজিত মণ্ডল, গণেশ মণ্ডল, গোলক মণ্ডল, তাপস মণ্ডল, সঞ্জয় মণ্ডল জানান, জোয়ারের পানিতে তাদের ইটের রাস্তাটির ওপর হাঁটুপানি। বাড়ির উঠোন তলিয়ে যায়। মন্দির প্রাঙ্গণ ও স্কুলের মাঠও ডুবে থাকে।
তারা অভিযোগ করেন, অন্যের ঘেরের মাছ উঠিয়ে নেওয়ার জন্য জোয়ারের পানি ঢুকিয়ে এ কৃত্রিম দুর্যোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
গেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফকির গাজী জানান, ইকবাল কাগজী, আব্দুল আজিজ মোল্লা, খোকন কাগজী, তনু গাজী, লাভলু প্রমুখ জোর করে গেটের পাট তুলে জোয়ারের পানি ঢুকিয়েছেন।
ইকবাল কাগজীর ভাষ্য, ‘গোনের সময় মাছ ধরার জন্য জোয়ারের প্রয়োজন হয়। একারণে জোয়ার দিয়েছি।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কে এম আরিফুজ্জামান তুহিন বলেন, ‘আমি খুলনায় চিকিৎসাধীন আছি। এলাকাবাসী মোবাইলে কেওড়তলা এলাকা প্লাবিত হওয়ার কথা জানিয়েছে। আমি তাদেরকে লিখিত অভিযোগ করার কথা বলেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন