জীবননগরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট: 10:41:08 10/08/2020



img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : জীবননগর উপজেলার এক নিভৃতপল্লীতে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে তার গৃহশিক্ষক ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। ঘটনার পর ওই শিক্ষকের কারণে মেয়েটির লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে বলেও অভিযোগ।
অভিযুক্ত ধর্ষক শিক্ষককে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সোমবার বেলা ১২টার দিকে ওই ছাত্রীর বাবা গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার বড় মেয়ে মেধাবী; পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছিল। সে এখন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মোক্তারপুর গ্রামের ফজলুল হক বিশ্বাসের ছেলে মোক্তারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আল-মামুন তাকে বাড়িতে পড়াতো। এই সুযোগে গত ২৬ এপ্রিল ওই শিক্ষার্থীকে নির্জন ঘরে আটকে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে মাস্টার। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জানালে তারা ব্যাপারটি নিয়ে পুলিশের কাছে না যাওয়ার চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামের প্রভাবশালীরা উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দিয়ে কেবল সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
তিনি অভিযোগ করেন, মেয়েকে অন্য গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে দিলে ‘ধর্ষক’ শিক্ষক তাতে বাধা সৃষ্টি করে এবং ‘তার কাছেই পড়তে হবে’ বলে পরিবারকে হুমকি দিতে থাকে। সে পরিবারের নারী সদস্যদের প্রকাশ্যে গণহারে ধর্ষণেরও হুমকি দিচ্ছে। এ কারণে নিরাপত্তার অভাব বোধ করে মেয়ের পড়াশুনা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
ওই ব্যক্তির ভাষ্য, ‘‘এসব হুমকি উপেক্ষা করে জীবননগর থানায় গেলে সেখানেও আমাকে নানাভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয়। ধর্ষিত মেয়ের সামনে ওই থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলামসহ উপস্থিত অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা আমাদের বলতে থাকে, ‘তোমরা মেয়ে নিয়ে ব্যবসা করছো নাকি? এতদিন থানায় না এসে টাকা কামানোর ধান্দায় ছিলে?’ ‘স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্রভাবশালীদের কারণেই থানায় মামলা করতে এসেও ফিরে গেছি’- এমন কথা বললে ওই থানার ওসিসহ উপস্থিত অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।’’
পরে যোগাযোগ করা হলে ধর্ষিত ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘থানায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ মামলা রুজুর জন্য সই নিয়েছে। কিন্তু মামলা নথিভুক্ত হয়েছে কি না জানি না।’
জীবননগর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, গত রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল পাঁচটার পর মেয়েটির বাবা মোক্তারপুর গ্রামের ফজলুল হক বিশ্বাসের ছেলে মোক্তারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আল-মামুনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। আজ সোমবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে।

আরও পড়ুন